সদ্য মন্দা কেরিয়ারের শাপমোচন ঘটিয়ে দাপুটে প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছিলেন, কিন্তু এর মাঝেই কিনা বড়সড় বিপাকে পড়তে হল 'ধুরন্ধর' রণবীর সিংকে! ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ-এর তরফে অভিনেতাকে বলিউডে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এহেন গগনচুম্বী সাফল্যের পর কেরিয়ারের বৃহস্পতি যখন তুঙ্গে, তখন আবার কেন 'অভিশাপের খাঁড়া' নেমে এল 'ব্লকবাস্টার নায়কে'র উপর?
খবর, 'ডন ৩' সিনেমা নিয়ে পরিচালক-প্রযোজক ফারহান আখতারকে নাকানি-চোবানি খাওয়ানোর জের। ‘ধুরন্ধর’ সাফল্যের পর ফারহান আখতারের মেগাবাজেট ‘ডন ৩’ ছবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রণবীর সিং (Ranveer Singh)। যদিও ‘অতিরিক্ত বায়নাক্কা’র জেরে অভিনেতাকে ছাঁটাই করা হয়েছে, নাকি চিত্রনাট্য নাপসন্দ হওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন, সেই তত্ত্ব নিয়ে বিটাউনে এখনও জলঘোলা বহাল। এমতাবস্থায় মাঝপথে সিনেমার কাজ থেমে যাওয়ায় ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিংয়ের থেকে ফেব্রুয়ারি মাসেই মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন ফারহান আখতার এবং রীতেশ সিধওয়ানি। যদিও ‘প্রোডিউসার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়া’র বৈঠকে ‘সেই টাকা দেওয়া আমার দায় নয়’ বলে সরে গিয়েছিলেন রণবীর। তবে সম্প্রতি জানা যায়, ফারহানের সঙ্গে তরজা মেটাতে রণবীর নাকি নিজেই উপযাচক হয়ে ওই ক্ষতিপূরণের কিয়দংশ মেটাতে চেয়েছিলেন। যদিও সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি! এবার সেই প্রেক্ষিতেই 'ধুরন্ধর' অভিনেতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) সংগঠন।
"সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘বৈজু বাওরা’ ছবির জন্য এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। অন্য কোনও ছবিতে সইও করিনি সেসময়ে। অনেক প্রস্তাব ফিরিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় সেই ছবিতে ব্যয় করার পরও বনশালির থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ আমি দাবি করিনি। তাই এক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া আমার দায় নয়।"
রণবীর সিং ছাড়লেও 'ডন ৩' হবেই! চ্যালেঞ্জ ফারহান আখতারের। ছবি- সংগৃহীত
গত ফেব্রুয়ারি মাসেই জানা যায়, এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের দুই মালিক রীতেশ এবং ফারহান আখতার রণবীর সিংয়ের থেকে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। কারণ, বছরখানেক আগে অভিনেতা সবুজ সংকেত দেওয়ার পরই ‘ডন ৩’ ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু করেছিলেন তাঁরা। এমনকী ‘ধুরন্ধর’-এর কাজ শেষ হওয়ার পরই ফারহানের ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমার শুটিং শুরু করার কথা ছিল অভিনেতার। কিন্তু পঁচিশ সালে বছরশেষে আচমকাই শোনা যায়, ‘ডন ৩’ ছেড়ে রণবীর সিং এবার জয় মেহেতার ‘প্রলয়’-এর শুটিং শুরু করবেন। যার জন্য নতুন দিনক্ষণও ছকে ফেলেছেন অভিনেতা। যদিও এহেন সিদ্ধান্তে দর্শকমহল বেশ উৎফুল্লিত। কারণ ২০২৩ সালে ‘ডন ৩’ ছবির টিজার প্রকাশ্যে আসার পর রণবীর সিংকে ‘ডন’ অবতারে দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন তাঁরা। তবে সেই দুঃসময়ে অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে দর্শকদের পালটা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন ফারহান আখতার। সেই পরিচালক-প্রযোজককেই কিনা সাফল্যের শিখর ছুঁয়ে ভুলে গেলেন ‘ধুরন্ধর’ রণবীর! মনোমালিন্যের জেরে ফারহানের ইনস্টাতেও আর ঠাঁই নেই তাঁর। এমনকী ‘প্রোডিউসার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়া’র বৈঠকে রণবীর সিং যুক্তি দিয়েছিলেন, "সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘বৈজু বাওরা’ ছবির জন্য এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। অন্য কোনও ছবিতে সইও করিনি সেসময়ে। অনেক প্রস্তাব ফিরিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় সেই ছবিতে ব্যয় করার পরও বনশালির থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ আমি দাবি করিনি। তাই এক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া আমার দায় নয়।" মধ্যস্থতা করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় FWICE সংগঠনকেও। কারণ পালটা ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ-এর সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেন রণবীর। তিনি জানান, এই সমস্যা সমাধানের জন্য বরং 'উপযুক্ত' ফোরামের প্রয়োজন। এবার সেই প্রেক্ষিতেই অভিনেতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
"আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সমগ্র সিনেশিল্প একটি বৃহৎ পরিবারের মতোই কাজ করে। যেখানে বিভিন্ন কলাকুশলী ও বিভাগীয় কাজের সাথে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি একটি সফল প্রজেক্টের রূপায়ণে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখেন।..."
রণবীর সিং, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
FWICE-এর তরফে জানানো হয়েছে, "আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সমগ্র সিনেশিল্প একটি বৃহৎ পরিবারের মতোই কাজ করে। যেখানে বিভিন্ন কলাকুশলী ও বিভাগীয় কাজের সাথে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি একটি সফল প্রজেক্টের রূপায়ণে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখেন। ফেডারেশন সকল শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক, পরিচালক এবং প্রতিটি বিভাগের সদস্যদের এক অখণ্ড পরিবারের অংশ হিসেবে গণ্য করে। যারা পারস্পরিক বিশ্বাস, পেশাগত অঙ্গীকার, শ্রদ্ধা এবং যৌথ দায়িত্ববোধ সূত্রে আবদ্ধ। তাই কোনও প্রজেক্ট থেকে শেষমুহূর্তে বড় তারকাদের হঠাৎ করে সরে দাঁড়ানো সিনেশিল্প তথা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাস্তুতন্ত্রের জন্য এক গুরুতর হুমকি।"
প্রসঙ্গত, কোভিডকাল থেকেই রণবীর সিংয়ের ফিল্মি কেরিয়ারে খানিক ভাঁটা চলছিল! ‘৮৩’, ‘সার্কাস’, ‘জয়েশভাই জোয়ারদার’ কোনও ছবিই দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারেনি। তেইশে ‘রকি অউর রানি’ ভালো আয় করলেও ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘গদর ২’ কিংবা ‘অ্যানিম্যাল’-এর ব্যবসার ধারকাছেও ছিল না। চব্বিশ সালে রোহিত শেট্টির ‘সিংহম এগেইন’-এর ডাকসাইটে কাস্টিংয়ে রণবীর সিং থাকলেও, মুখ্য চরিত্রে থাকা অজয় দেবগণ, করিনা কাপুরই সমস্ত লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন। ফলত, ‘ধুরন্ধর’-এর হাত ধরেই যে রণবীরের দাপুটে প্রত্যাবর্তন ঘটল, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরও মান রেখেছেন তিনি। কারণ এযাবৎকাল দক্ষিণী ছবির গুঁতোয় সিনেবাজারে পিছু হঠতে হত বলিউডকে। তবে রণবীর সিংয়ের সুবাদে কলার উঁচু করার সুযোগ পেয়েছিল হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। কারণ ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ভারতের সিনেইতিহাসে প্রথম দিনে সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে শীর্ষস্থানে থাকা দক্ষিণী সিনেমাগুলিকে বড় অঙ্কের ব্যবধানে টেক্কা দিয়েছে ‘ধুরন্ধর’ সিক্যুয়েল। সেই তালিকায় ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’, ‘আরআরআর’, ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’এবং ‘কেজিএফ ২’-এর মতো তাবড় সিনেমাগুলিও রয়েছে। কিন্তু বলিউডের হয়ে যোগ্য জবাব ছুড়েও 'ডন ৩' সিনেমা নিয়ে প্রযোজক ফারহানকে নাস্তানাবুদ করায় এবার হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেই কোণঠাসা হতে হল রণবীর সিংকে।
