প্রথম পর্বের লড়াইয়ে মুম্বইকে একতরফাভাবে হারিয়েছিল চেন্নাই। দ্বিতীয় দফাতেও একই ছবি। ব্যাটে-বলে, সব দিকেই হার্দিক পাণ্ডিয়াদের ওড়াল সিএসকে। রানে ফিরলেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। হাফসেঞ্চুরি তরুণ তুর্কি কার্তিক শর্মার। ম্যাচের পর তাঁর ব্যাটিংয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় তাঁর 'বন্দুক সেলিব্রেশন'। অনেকেই বলছেন, দুই দশক আগে এমএস ধোনির স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছেন ২০ বছরের ক্রিকেটার।
ম্যাচ শেষ হতেই বন্দুক তাক করার ভঙ্গিতে সেলিব্রেশন করেন কার্তিক। কেন এমন করলেন? কার্তিক জানান, এই সেলিব্রেশন ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। মাঠে নামার আগেই তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন, রান পেলে এভাবেই সেলিব্রেট করবেন। তাঁর কথায়, "আগেই ঠিক করেছিলাম, আজ যদি রান করি, তাহলে এভাবেই সেলিব্রেট করব।" তিনি স্পষ্ট জানান, এর নেপথ্যে ধোনির কোনও প্রভাব ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব। দীর্ঘদিন ধরে যে মাইলফলকের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন, সেটিকে নিজের মতো করে উদযাপনের এক বিশেষ উপায়।
তবে ধোনির সঙ্গে তুলনা এড়ানো কঠিন। ২০০৫ সালের অক্টোবরে, ২৪ বছর বয়সি ধোনি সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলেছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চাপের মুখে ছিল ভারত। সেই সময় নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেন ধোনি। ১৪৫ বলে ১৫টি চার ও ১০টি ছক্কায় অপরাজিত ১৮৩ রান করেন। ৪৬.১ ওভারে ৪ উইকেটে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া। শতরান পূর্ণ করার পর বন্দুক তাক করার ভঙ্গিতে তাঁর সেলিব্রেশন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
তরুণ কার্তিক শর্মা যথেষ্ট পরিণত ইনিংস খেলেন। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪০ বলে ৫৪ রানে। অধিনায়ক তাঁকে পথ দেখিয়েছেন। মাথা ঠান্ডা রেখে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আবার প্রয়োজনে রানের গতি বাড়িয়েছেন। ১১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই। তবে কার্তিকের সেলিব্রেশন নিয়ে আলোচনা থামেনি। এক নেটিজেন বলছেন, 'ধোনির স্মৃতি ফিরিয়ে আনল ছেলেটা!' আরেকজনের মন্তব্য, 'সেলিব্রেশনটা ধোনির, কিন্তু আত্মবিশ্বাসটা একেবারে নিজের।' আরেজ ইউজারের কথায়, 'সিএসকে সবসময় নতুন নায়ক খুঁজে নেয়।' উল্লেখ্য, ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে উঠে এসেছে সিএসকে।
