মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১৫৯/৭ (নমন ৫৭, অংশুল ৩২/৩)
চেন্নাই সুপার কিংস: ১৬০/২ (রুতুরাজ ৬৭*, কার্তিক ৫৪*, বুমরাহ ২০/১)
৮ উইকেটে জয়ী চেন্নাই
নামেই আইপিএলের 'এল ক্লাসিকো'। সেই জৌলুস এখন অনেকটাই ফিকে। চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ভক্তরা ট্রফি ক্যাবিনেট দেখাতেই পারেন, কিন্তু গত কয়েক মরশুমে দু'টো দলই নিচের দিকে পড়ে আছে। এবারের আইপিএলেও ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছে। তার উপর মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা খেলছেন না। প্রথম পর্বের লড়াইয়ে মুম্বইকে একতরফাভাবে হারিয়েছিল চেন্নাই। চিপকে দ্বিতীয় দফাতেও ব্যতিক্রম হল না। ব্যাটে-বলে, সব দিকেই হার্দিক পাণ্ডিয়াদের ওড়াল সিএসকে। রানে ফিরলেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়ার। ভরসা দিয়ে হাফসেঞ্চুরি করলেন তরুণ তুর্কি কার্তিক শর্মা। ৮ উইকেটে জিতে লিগ টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এল চেন্নাই, বাঁচিয়ে রাখল প্লে অফের স্বপ্নও। অন্যদিকে প্লেঅফের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে গেল মুম্বই।
এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া। রোহিতের অভাব আরও একবার টের পাওয়া গেল। অফ ফর্মে থাকা উইল জ্যাকসকে মাত্র ১ রানে ফেরান অংশুল কাম্বোজ। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে রায়ান রিকেলটন ও নমন ধীর মিলে মুম্বইকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। এর মধ্যে নমনের সহজ ক্যাচও মিস করেন শিবম দুবে। সেই সুযোগে হাফসেঞ্চুরি করে যান তরুণ ব্যাটার। ৪টে চার ও ৩টে ছক্কায় ৫৭ রান করেন নমন। জেমি ওভারটনের বলে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফেরান সরফরাজ খান। অন্যদিকে রিকেলটন ৩৭ রানে নূর আহমেদের স্পিনে বন্দি হন। সেই যে মুম্বইয়ের রানের গতি কমল, তারপর আর উন্নতি হয়নি। সূর্যকুমার যাদব (২১), তিলক বর্মা (৫) ও হার্দিক পাণ্ডিয়া (১৮), তিন মহাতারকার রান খরা অব্যাহত। এই যদি দলের স্তম্ভদের অবস্থা হয়, তাহলে আর বড় রান ওঠে কীভাবে? শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫৯ রান করে মুম্বই। কাম্বোজ ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন। ১৭ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপের দৌড়েও আছেন তিনি। নূর আহমেদ দু'টি ও এদিন অভিষেক হওয়া রামকৃষ্ণ ঘোষ একটি উইকেট পান।
জবাবে একেবারেই বিপাকে পড়তে হয়নি চেন্নাইকে। সহজ লক্ষ্য, মাথা ঠান্ডা করে তুলে নেন সিএসকে ব্যাটাররা। শুরুতে সঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জশপ্রীত বুমরাহ। ব্যস, ওটুকুই। রুতুরাজ গায়কোয়াররা একেবারেই তাড়াহুড়ো করেননি। ধীরেসুস্থে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। ৪৮ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন চেন্নাই অধিনায়ক। মাঝে ইনিংস তৈরির কাজ করে যান তরুণ ঊর্ভিল প্যাটেলও। আল্লা গজনফারের বলে ২৪ রানে আউট হন তিনি। বাকি কাজটি করে দেন আরেক তরুণ কার্তিক শর্মা। তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। অধিনায়ক তাঁকে পথ দেখিয়েছেন। আর কার্তিক মাথা ঠান্ডা রেখে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আবার প্রয়োজনে রানের গতি বাড়িয়েছেন। ১১ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই। আপাতত ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে উঠে এল তারা। অন্যদিকে ৯ ম্যাচে মুম্বইয়ের পয়েন্ট মাত্র ৪। পরের ৫টি ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ১৪। তখন অন্য দলের উপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু হার্দিক-সূর্যরা যে ফর্মে, তাতে সেই আশা সম্ভবত কোনও অন্ধ মুম্বইভক্তও করবেন না।
