চেন্নাই সুপার কিংস: ১৯২-৫ (সঞ্জু ৪৮, ব্রেভিস ৪১, নারিন ১-২১)
কেকেআর: ১৬০-৭ (রমণদীপ ৩৫, পাওয়েল ৩১)
চেন্নাই সুপার কিংস ৩২ রানে জয়ী।
আর কোনও সংশয়ই রইল না। আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষ আসনটি যদি কারও প্রাপ্য হয়, সেটা এক এবং একমাত্র কেকেআরের। মঙ্গলবার জঘন্য, দিশাহীন ক্রিকেট খেলে অজিঙ্কে রাহানেরা বুঝিয়ে দিলেন, অতীতের তিন হার থেকে কোনও শিক্ষাই নেয়নি নাইটরা। ব্যাটিং, বোলিং এবং অধিনায়কত্ব তিন বিভাগেই আইপিএলের বাকি দলগুলির থেকে পিছিয়ে কেকেআর। মরশুমে ৩ ম্যাচ আগেই হেরেছিল নাইটরা। মঙ্গলবার সেই তালিকায় আরও এক ম্যাচ যোগ হল। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৩২ রানের লজ্জার হার উপহার দিল নাইটরা।
পরপর হারে বিধ্বস্ত কেকেআর এদিন টস জেতে। খানিক চমকপ্রদভাবেই 'আত্মবিশ্বাসহীন' নাইট ব্রিগেড প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিল। গোটা মরশুমেই পাওয়ার-প্লেতে সবচেয়ে বিশ্রী বোলিং করেছে কেকেআর। এদিনও বিশেষ ব্যতিক্রম হল না। প্রথম ৬ ওভারেই চেন্নাই তুলে দিল ৭২ রান। ততক্ষণে দু'টি মাত্র উইকেট পড়েছে। পাওয়ার প্লের পরও রানের গতি কমল না। ম্যাচের ১৬ তম ওভার পর্যন্ত ১০ রান করে ওভারে তুলছিল চেন্নাই। সেখান থেকে শেষ কয়েক ওভারে খানিক ভালো বল করে সিএসকে-কে ৫ উইকেটে ১৯২ রানে আটকায় নাইটরা। চেন্নাইয়ের হয়ে সঞ্জু স্যামসন ৪৮ রান করেন। আয়ুশ মাত্রে ৩৮ এবং ব্রেভিস ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। নারিন এদিন ফের অনবদ্য বোলিং করেন। মাত্র ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি।
চিপকের স্লো পিচে ১৯৩ রান তোলাটা বেশ কঠিন। সেই রান তাড়া করতে গিয়ে শুরুটাই বিশ্রী হয় নাইটদের। এদিন ওপেন করতে পাঠানো হয় সুনীল নারিনকে। কিন্তু নিয়মিত ওপেনার ফিন অ্যালেন এদিন ফের ব্যর্থ হলেন। মাত্র ১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তিনি। নারিন ১৭ বলে ২৪ রান করলেন। এই ইনিংস আর যা-ই হোক নারিনসুলভ নয়। এরপর ২২ বলে ২৮ রানের 'বিখ্যাত' এক ইনিংস খেলে গেলেন অধিনায়ক রাহানে। রঘুবংশী ১৯ বলে ২৭ রান করলেন। এরপর টিমের ভাইস ক্যাপ্টেন রিঙ্কু সিং ১২ বলে ৬ রানের ইনিংস খেলে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। ২৫ কোটির গ্রিন এদিন প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফিরলেন। ততক্ষণে জয়ের আশা শেষ। শেষদিকে খানিকটা সম্মানরক্ষার জন্য লড়লেন রভম্যান পাওয়েল এবং রমণদীপ সিং। কিন্তু সেটা নেহাত সম্মানরক্ষার লড়াই-ই ছিল। জয়ের লড়াই ছিল না। শেষমেশ নাইটদের ইনিংস শেষ হল ১৬০ রানে। চেন্নাই জিতল ৩২ রানে।
আইপিএল ইতিহাসে এই প্রথমবার শুরুর পাঁচ ম্যাচের একটিও জিততে পারল না কেকেআর। এদিনের এই হারে আরও একবার নাইটদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। এই দলের মধ্যে আদৌ ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ আছে তো? রিঙ্কু সিং, রাহানেরা ঠিক টি-২০ ক্রিকেটের মানসিকতা নিয়ে খেললেন তো?
