এই মুহূর্তে আইপিএল (IPL 2026) এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে সব ম্যাচই কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) কাছে সব ম্যাচই মরণবাঁচন। একটা ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট হলেও কার্যত শেষ হয়ে যাবে প্লে-অফের স্বপ্ন। কেবল কেকেআর কেন, দিল্লি ক্যাপিটালসের (DC) কাছেও একই সমীকরণ স্পষ্ট। পয়েন্ট টেবিলে সাত ও আটে থাকা দল দিল্লি ও কলকাতা। দুই দলের সম্মুখ সমরে আপাতত বাজি মারল অজিঙ্ক রাহানের দল। টস জিতে ফিল্ডিং করতে নেমে আঁটসাঁট বোলিংয়ে দিল্লিকে মাত্র ১৪২ রানে আটকে দিল কলকাতা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেননি দিল্লির দুই ওপেনার পাথুম নিশঙ্কা এবং কেএল রাহুল। ওভার পিছু প্রায় ১০ করে রান ছিল। তবে সেট হওয়া রাহুলকে ফিরলেন কার্তিক ত্যাগীর বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে। এরপর একদিকে নিশঙ্কা ধরে রাখলেও নীতীশ রানাকে ফেরালেন ক্যামেরন গ্রিন। এরপর নারিনকে ছয় মারতে গিয়ে পাওয়েলের হাতে ধরা পড়লেন সমীর রিজভি (৩)। ভয়ানক হয়ে ওঠা নিশঙ্কা ফিরলেন অনুকূলের ওয়াইড বল এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটারকে স্টাম্প করতে ভুল করলেন না নাইট উইকেটকিপার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী।
এর খানিকক্ষণ পরেই ফিরলেন অনুকূলের বল বুঝতে না পেরে বোল্ড স্টাবস (২)। সেই সময় ৮৯ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে দিল্লি। এরপরেই অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল এবং আশুতোষ শর্মা দিল্লির হাল ধরেন। বৈভব আরোরার বলে আউট অক্ষর ১১ রানে আউট হলেন। বাউন্ডারি লাইনে দুরন্ত ক্যাচ নিলেন অনুকূল রায়। অক্ষর-আশুতোষের জুটিতে উঠল ৩৯ রান। ক্যাপ্টেন আউট হতেই ব্যাটিং গিয়ার বদলালেন আশুতোষ। ২৮ বলে ৩৯ রানে রাহানেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন। তাঁর ইনিংস সাজানো তিন চার ও তিন ছক্কায়। শেষ পর্যন্ত দিল্লি তুলল ৮ উইকেটে ১৪২। অনুকূল রায় ও কার্তিক ত্যাগী নিলেন জোড়া উইকেট। ক্যামেরন গ্রিন, সুনীল নারিন, বৈভব আরোরাদের শিকার একটি করে উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ২৮ রান। তবে উইকেটশূন্য থাকলেন নাইটদের 'রহস্য স্পিনার'।
পয়েন্ট টেবলের গতিপ্রকৃতি বলছে, এবার ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। ‘কাট অফ’ হবে অন্তত ১৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ দিল্লি আর কেকেআরের কাছে পয়েন্ট নষ্টের কোনও সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অবশ্য কিছুটা অ্যাডভান্টেজ নিয়েই খেলছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। এবছর কোটলায় পাঁচ ম্যাচে চারবারই জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। হয়তো সেই কারণে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন অধিনায়ক রাহানে। প্রথমে ব্যাট করে দিল্লি যা রান তুলল, তাতে বলাই যায় পরিকল্পনায় সফল নাইট অধিনায়ক। এবার ব্যাটারদের পালা। কেকেআর কি পারবে টানা চার ম্যাচ জিতে প্লেঅফের লড়াই জমিয়ে দিতে? সময়ই এর উত্তর দেবে।
