চিন যে পাকিস্তানের 'বন্ধু' একথা নতুন নয়। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের সময়ও যে তারা ইসলামাবাদকে সাহায্য করেছিল, তা এবার সরাসরি মেনে নিল বেজিং। চিনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চিন মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সময় পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান মেরামত করে দিয়েছিলেন চিনের ইঞ্জিনিয়াররা। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নানা সহায়তাও করেছিলেন তাঁরা। এই প্রথম পাকিস্তানকে সাহায্য করার মতো বিষয় নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এল বেজিং থেকে।
বৃহস্পতিবার চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে দিয়েছিলেন অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না-র ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং। সেখানে তিনি চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি চিনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এদিন ঝাং বলেন, তিনি এমন একটি দলের সদস্য ছিলেন, যারা ২০২৫ সালের মে মাসে পাক সেনাকে সাহায্য করেছিল চারদিন ব্যাপী যুদ্ধের সময়।
অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান মেরামত করে দিয়েছিলেন চিনের ইঞ্জিনিয়াররা। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নানা সহায়তাও করেছিলেন তাঁরা। এই প্রথম পাকিস্তানকে সাহায্য করার মতো বিষয় নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এল বেজিং থেকে।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।
কয়েকদিন আগে বর্ষপূর্তিতে মার্কিন সমর বিশেষজ্ঞ জন স্পেন্সার ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে কুর্নিশ করেছিলেন। তাঁর মতে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের আকাশ দখল করে পাক সেনাকে নাস্তানাবুদ করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশন সিঁদুর ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতাকেই প্রমাণ করে।
