জয় দিয়ে আইপিএল অভিযান শুরু হয়নি ইডেন গার্ডেন্সে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের। এমন একটা ম্যাচে জিতবে কে, তা জানা যাবে কয়েক ঘণ্টা পরেই। জয়ের সরণিতে ফিরতে মরিয়া কেকেআর অধিনায়ক প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠালেন সানরাইজার্সকে। এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যেতেই পারে। প্রথম দিকের 'প্রহার' সামলে প্রত্যাবর্তন করল বটে নাইটরা, তবে বড়সড় লক্ষ্য তাড়া করতেই হবে রাহানেদের। নাইটদের সামনে ২২৭ রানের লক্ষ্য রেখেছে হায়দরাবাদ।
'রণংদেহি' মেজাজে শুরু করেছিলেন সানরাইজার্স ওপেনার ট্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা। তাঁদের তাণ্ডব দেখে মনে হচ্ছিল কপালে দুঃখ অপেক্ষা করে আছে নাইটদের। কেকেআর বোলারদের পরিকল্পনাকে কার্যত ভেস্তে দিয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তাঁরা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জ্যাকব ডাফি শর্ট বলের ফাঁদে পড়েছিলেন এসআরএইচ ব্যাটাররা। সেই কৌশলই এদিন অনুসরণ করতে গিয়ে ফাঁদে পড়লেন ব্লেসিং মুজারাবানি। প্রথম ওভারেই বিপক্ষ ব্যাটারদের বাড়তি জায়গা দিয়ে ফেললেন। আর সেই সুযোগেই কভার এলাকা দিয়ে টানা দু'টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ বাড়িয়ে দিলেন হেড। তাঁর শেষ বলে ডিপ মিডউইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলেন অভিষেক শর্মা। এটাই ছিল ম্যাচের প্রথম ছক্কা।
সেই শুরু। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে আসা বৈভব অরোরার উপর নির্দয় হন অজি ব্যাটার। প্রথম পাঁচ বলেই দু'টি চার ও দু'টি ছক্কা হাঁকান হেড। তিন ওভারে বিনা উইকেটে ৪৩ রান তুলে নেয় হায়দরাবাদ। হেড বনাম বৈভবের লড়াইয়ের ইতিহাসটা কিন্তু বেশ জমজমাট। ২০২৪ সালের ফাইনালে প্রথম বলেই হেডকে আউট করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের প্রথম ম্যাচেও দ্রুত ফিরিয়েছিলেন। তবে এদিনের দ্বৈরথে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছেন হেড। দু'জনের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও সেই গল্পই বলছে। সব মিলিয়ে বৈভবের ২২ বলে ৪৯ রান করেছেন হেড। আউট হয়েছেন মাত্র দু'বার। মাঠে তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংস আবারও প্রমাণ করে দিল, সুযোগ পেলে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তিনি। অজি তারকা শেষ পর্যন্ত কার্তিক ত্যাগীর বলে ২১ বলে ৪৬ রান করে আউট হলেন যখন, এসআরএইচের রান ৫.৪ ওভারে ৮২।
অন্যদিকে, চালিয়ে খেলতে থাকেন 'শর্মাজি কা বেটাও'। ইডেনেও শনির দশা কাটল না বরুণ চক্রবর্তীর। তাঁর প্রথম ওভারে ২৫ রান নিলেন অভিষেক শর্মা। প্রথম ৮ ওভারে ১ উইকেটে ১১০ রান তোলে হায়দরাবাদ। তবে এদিন অবশ্য ব্যর্থ হন অধিনায়ক ঈশান শর্মা। ৯ বলে ১৪ করলেন। মুজারাবানির বলে সাজঘরে ফিরলেন তিনি। এর ঠিক পরেই আউট অভিষেকও। জিম্বাবোয়ে তারকাই ২১ বলে ৪৮ করে ফেরালেন বাঁহাতি ওপেনারকে। নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেট অনুকূল রায়ের উইকেট পেলেন অনুকূল রায়। এই সময়টায় সাত বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারাল হায়দরাবাদ।
এরপর অবশ্য জমে যান হাইনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডি। দু'জনের ৮২ রানের জুটিতে ২০০-র মাইলস্টোনে পৌঁছয় হায়দরাবাদ। জুটি ভাঙলেন বৈভব অরোরা। ২৪ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন নীতীশ। ঠিক পরের বলেই সলিল অরোরাকে বোল্ড করলেন তিনি। তবে ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করে হায়দরাবাদকে বড় রানে নিয়ে গেলেন ক্লাসেন। শেষ পর্যন্ত মুজারাবানির বলে ফিরলেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে চতুর্থ উইকেট জিম্বাবোয়ে পেসারের। ৮ উইকেটে ২২৬ রানে থামল সানরাইজার্স ইনিংস।
