গত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলিং বিভাগের দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছিল। এবারের লখনউ দলে ভারতের প্রাক্তন বোলিং কোচ ভরত অরুণ যোগ দিয়েছেন। লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) জানাচ্ছেন, ভরত অরুণের কোচিংয়ে লখনউয়ের বোলিং বিভাগ প্রভূত উন্নতি করেছে। তাদের বোলিং অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাঁর আশা, আসন্ন আইপিএলে লখনউয়ের ফল আগের তুলনায় অনেক ভালো হবে।
গতবছর আইপিএলে লখনউয়ের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ঋষভ নিজেও সেরা ফর্মের ধারেকাছে ছিলেন না। একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লখনউ অধিনায়ক জানিয়েছেন, তাঁর প্রাক মরশুম প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। বিশেষ করে ভরত অরুণ যোগ দেওয়ায় তরুণ পেসাররা উপকৃত হয়েছেন। ঋষভ বলেছেন, ‘‘জোরে বোলারদের শিবিরটা সত্যিই দুর্দান্ত হয়েছে। ভরত অরুণ স্যর যোগ দেওয়ার পর অনেক নতুন নতুন বিষয় শিখতে পারছি। ওঁর অভিজ্ঞতা আমাদের প্রচুর সাহায্য করছে। বোলারদের থেকে আমরা কী চাই, তিনি কীভাবে দলকে সাহায্য করতে পারেন, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসাবে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা। ভারতীয় দলে থাকাকালীন ওঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভরত স্যরের উপর আমার অগাধ আস্থা।’’
তিনি আরও জানিয়েছেন, বোলাররা তাঁর সঙ্গে মন খুলে কথা বলে। একজন বোলিং কোচের কাছ থেকে এটাই চাহিদা। ঋষভ বলেছেন, ‘‘গত মরশুমে বোলিং পারফরম্যান্সের পর্যালোচনা করে বুঝতে পেরেছিলাম আমাদের নতুন কিছু সংযোজন করতে হবে। ভরত স্যরের যোগদান আমাদের বোলিংয়ে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। ওঁকে দলে পেয়ে আমরা সকলেই খুশি।’’
ঋষভ সবসময় ড্রেসিংরুম মাতিয়ে রাখতে ভালোবাসেন। আমুদে ক্রিকেটার হিসাবেই সতীর্থদের কাছে পরিচিত লখনউ অধিনায়ক। ঋষভ বলছিলেন, ‘‘এখনকার ক্রিকেট ভীষণই চাপের। আমি চাই পরিবেশটাকে হালকা করতে। সবাই চায় একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করতে। সেই আবেগ, ভালোবাসাটা বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যায়। আপনি যদি সবসময় কিছু না কিছু চিন্তা করেন, তাহলে নিজের সেরাটা দিতে পারবেন না। আমি ক্রিকেটারদের বলি, আমরা ক্রিকেট কেন খেলতাম? খেলায় জয়-পরাজয় আছেই। কিন্তু সবার আগে খেলাটাকে উপভোগ করা দরকার। মজা করা প্রয়োজন। এই জিনিসগুলোই হারিয়ে গিয়েছে। যদি ক্রিকেটাররা তা ফিরিয়ে আনতে পারে, তা হলে তারাই খুশিতে থাকবে।’’
নতুন মরশুম শুরুর আগে মানসিকভাবে ঠিক কোন জায়গাতে আছেন ঋষভ? এর জবাবে লখনউ অধিনায়ক বলেন, ‘‘আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে দারুণ জায়গায় আছি। প্রতিদিন পরিশ্রম করছি। উপভোগ করছি। যত পরিশ্রম করব ততই উন্নতি হবে।’’
