মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং হার্দিক পাণ্ডিয়াকে নিয়ে বিতর্ক থামার লক্ষণই নেই। চোটের কারণে দিনের পর দিন মাঠে নামছেন না নেতা হার্দিক। অথচ অনুশীলনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এহেন পরিস্থিতিতে প্রাক্তন ভারতীয় তারকা বীরেন্দ্র শেহওয়াগ মনে করছেন, হার্দিককে ছেড়ে দেওয়া উচিত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। খবর ছড়াচ্ছে, হার্দিকের অধিনায়কত্বে মুম্বই শিবিরের অধিকাংশ ক্রিকেটারই অখুশি। যদিও প্রকাশ্যে 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' করে চলেছে মুম্বই ম্যানেজমেন্ট। হার্দিকের পাশেই থাকছে দল।
২০২৪ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসাবে 'ঘরে ফেরেন' হার্দিক। তারপর থেকেই গুঞ্জন ছড়ায়, মুম্বই শিবির কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। মূলত ভারতীয় ক্রিকেটাররা চলে গিয়েছেন রোহিত শর্মা শিবিরে। সূর্যকুমার যাদব, জশপ্রীত বুমরাহ, তিলক বর্মারা কেউ অধিনায়ক হিসাবে হার্দিককে মানতে চাইছেন না। বিদেশি ক্রিকেটাররা অবশ্য হার্দিকে আস্থা রেখেছেন। মুম্বই ম্যানেজমেন্টে সবসময়েই ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাথায় রেখেই দল সাজিয়েছে। যেহেতু ভারতীয় ক্রিকেটাররা হার্দিককে নেতা হিসাবে মানতে নারাজ, সেকারণে আইপিএলে তাঁরা ভালো পারফর্ম করছেন না, এমন অভিযোগ উঠেছে বহুবার। বর্তমানে সেই অভিযোগ বেড়েছে অনেকটাই।
বিশ্বকাপজয়ী তারকা কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তও মনে করছেন, হার্দিককে ছাড়াই খুশি থাকেন মুম্বই ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার মুম্বইকে নেতৃত্ব দেন জশপ্রীত বুমরাহ। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ২০০ রান তাড়া করে জেতে মুম্বই। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রীকান্তের পর্যবেক্ষণ, "বুমরাহকে অধিনায়ক করাটা খুবই ভালো হয়েছে। গোটা টিমের মেজাজটাই পালটে গিয়েছে। দলের মধ্যে একতা বেড়েছে।" এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছেন শেহওয়াগও। তাঁর মতে, "হার্দিককে নিয়ে যেসব গুঞ্জন শুনছি, আশা করি সেসব সত্যি নয়। কিন্তু যদি সেগুলো সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই মুম্বইয়ের উচিত হার্দিককে ছেড়ে দেওয়া।"
হার্দিক সংক্রান্ত গুঞ্জন নিয়ে মুম্বই শিবির অবশ্য মাথা ঘামাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর শার্দূল ঠাকুর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "সোশাল মিডিয়ায় তো নানারকম খবর ছড়াতেই থাকে। আসলে হার্দিকের চোট আছে তাই কয়েকটা ম্যাচ খেলতে পারেনি। আপাতত ও ট্রেনিং করছে। আশা করছি আগামী বুধবার কেকেআরের বিরুদ্ধে হার্দিককে খেলানো যাবে।" শেষ পর্যন্ত কি দলের সঙ্গে হার্দিকের দূরত্ব ঘুচবে? নাকি আইপিএলের পরেই বিচ্ছেদ?
