২০২৩ সালে শেষবার আইপিএল জয়। তারপর পরপর ৩ মরশুম প্লেঅফেও যেতে পারেনি দল। লাগাতার এই ব্যর্থতার জেরে চেন্নাই সুপার কিংসের অন্দরে এখন 'প্যানিক' মোড। সূত্রের খবর, ম্যানেজমেন্ট চাইছে আগামী মরশুমের আগে দলের খোলনলচে বদলে ফেলতে। আর সেই বদলের শুরুটা হতে পারে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংকে সরানো দিয়ে। কিন্তু সমস্যা হল ফ্লেমিংয়ের কোনও পরিবর্তই নাকি পাচ্ছে না চেন্নাই।
আসলে মহেন্দ্র সিং ধোনি অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর সেভাবে আর নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি চেন্নাই। স্টিফেন ফ্লেমিং ধোনির পর আর কাউকে দলের অবিসংবাদী নেতা হিসাবে তৈরি করতে পারেননি। তাছাড়া দলেও ধারাবাহিকতা নেই। নিলামের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের কোচ ফ্লেমিংকে যে রাখা হবে না, সেটা একপ্রকার স্পষ্ট। কিন্তু সমস্যা হল, পরিবর্ত কে হবেন?
অনুশীলনে মাহি। ফাইল ছবি।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, চেন্নাইয়ের কোচ হওয়ার জন্য একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটারের কাছে প্রস্তাব গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে চেন্নাইয়েরই এক প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গে গত মরশুমে কথা হয়েছিল। কিন্তু তারা কেউই রাজি হননি। তাদের বক্তব্য, মহেন্দ্র সিং ধোনি দলে থাকাকালীন চেন্নাইয়ের কোচ হিসাবে থাকা সম্ভব নয়। কারণ ধোনির মতো মহীরুহ যদি ড্রেসিং রুমে থাকেন, তাহলে দলের পুরো নিয়ন্ত্রণ কোচের হাতে থাকে না। এতদিন ফ্লেমিং কাজ করতে পেরেছেন ধোনির সঙ্গে দুর্দান্ত রসায়নের জন্য। কিন্তু সেই কাজটা অন্য কারও পক্ষে করা কঠিন। বস্তুত চেন্নাইয়ের নতুন কোচ নিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন ধোনিই।
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন সিএসকে তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিন অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলছেন, কোচ নিয়ে এত খোঁজাখুঁজির দরকারটা কী? ধোনিকেই তো কোচ করে দেওয়া যায়। কিন্তু সেক্ষেত্রে আবার ধোনির নিজের সম্মতি থাকাটা জরুরি। যেটা পাওয়া যাবে কিনা সংশয় রয়েছে। আরও সমস্যা হল ধোনি এখনও ক্রিকেটার হিসাবেই অবসর নেননি। ফলে তিনি আদৌ কোচ হবেন কিনা জানা নেই। এই পরিস্থিতি কোনও কোনও মহলে জল্পনা শোনা যাচ্ছে, প্রাক্তন নাইট কোচ তথা অধুনা ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীরের কথা নাকি চেন্নাই ম্যানেজমেন্ট ভাবছে। তাঁদের ধারণা, গম্ভীরের ব্যক্তিত্ব দিয়েই একমাত্র চেন্নাইয়ের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। কিন্তু গম্ভীর আবার এখন জাতীয় দলের কোচ, তিনি আদৌ সিএসকের কোচ হতে রাজি হবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
