ইডেন গার্ডেন্সে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মরণবাঁচন ম্যাচ খেলতে নামছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রবিবারের এই হাইভোল্টেজ লড়াইকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। ম্যাচের বিরতিতে আয়োজন করা হবে এক অভিনব শো। যেখানে ইডেনের ঐতিহ্য আর বাংলা ক্রিকেটের সোনালি মুহূর্তগুলোকে মিলিয়ে তুলে ধরা হবে এক অনন্য কোলাজে।
কী সেই অনুষ্ঠান? ম্যাচের বিরতিতে লেজার শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ সম্মান জানানো হবে কপিল দেব, অ্যালান বর্ডার, জগমোহন ডালমিয়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ভিভিএস লক্ষ্মণদের। প্রত্যেকের সঙ্গেই ইডেনের যোগসাজশ রয়েছে। ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের লর্ডসের সেই ঐতিহাসিক দিন থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা। কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বজয় শুধু ট্রফি এনে দেয়নি, দেশের ঘরে ঘরে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নও জাগিয়ে তুলেছিল।
তারপর ১৯৮৭ সালে ইডেন গার্ডেন্সে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল। যেখানে অ্যালান বর্ডারের অস্ট্রেলিয়ার জয় আজও ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ অধ্যায়। এর ঠিক দু’বছর পর, ১৯৮৯-এ বাংলা রঞ্জি ট্রফি জিতে নতুন দিশা দেখায়। সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই দল থেকেই উঠে আসেন বেহালার এক তরুণ প্রতিভা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনিই পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। এই সময়েই বাংলা ক্রিকেট পায় এক দূরদর্শী প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়া। তাঁর হাত ধরেই ক্রিকেটে টেলিভিশন সম্প্রচারের আর্থিক গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে আসে। ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
২০০১ সালে এই ইডেনেই ঘটে আর এক বিস্ময়। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজে ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়ের অবিশ্বাস্য জুটি এবং হরভজন সিংয়ের হ্যাটট্রিক ভারতকে এনে দেয় ঐতিহাসিক জয়। থামিয়ে দেয় স্টিভ ওয়র অস্ট্রেলিয়ার অশ্বমেধের ঘোড়া। পরবর্তী সময়ে আইপিএলেও এই শহরের দাপট স্পষ্ট। কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০১২, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। শাহরুখ খান ও গৌতম গম্ভীরের যুগলবন্দি এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
এই সমৃদ্ধ ইতিহাসকেই এবার এক নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে সিএবি। রবিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচের বিরতিতে ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজন করা হবে বিশেষ লেজার শো। প্রায় ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের এই প্রেজেন্টেশনে মাঠের ওপর গ্রাউন্ড ম্যাপিং প্রযুক্তির সাহায্যে দেখানো হবে ইডেনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত, বাংলা ক্রিকেটের উত্থান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবদান, জগমোহন ডালমিয়ার প্রশাসনিক সাফল্য এবং কেকেআরের গৌরবগাঁথা। আলো নিভে যাওয়ার পর লেজারের ঝলকে সেই স্মৃতি যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে। যা ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে সিএবি।
