বাংলাদেশের কাছে টেস্টে চুনকাম হয়েছে পাকিস্তান। ঢাকার পর হাসতে হাসতে সিলেট টেস্ট ৭৮ রানে জিতে নিল বাংলাদেশ। এরপর তাদের দল নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে একের পর এক নাটক। চমকে দেওয়ার মতো খবর হল, ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের দলে সুযোগ দেওয়া হয়নি মহম্মদ রিজওয়ানকে। ফেরানো হয়েছে বাবর আজমকে।
মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ওয়ানডে সিরিজে এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক তিন ম্যাচে মাত্র ৫৮ রান করেন। মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ফর্মের খেসারত দিতে হয়েছে তাঁকে। তবে রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া নিয়ে যথেষ্ট চর্চা হয়েছে। গত বছর রিজওয়ানই ছিলেন পাক দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। ১৭টি ওয়ানডেতে করেছিলেন ৫৬৯ রান। গড় ৪৩.৭৬। এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফসেঞ্চুরি। তাই প্রশ্ন উঠছে, গত এক বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারকে মাত্র তিন ম্যাচের নিরিখে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আশ্চর্য বিষয় হল, গত বাংলাদেশ সিরিজে সুযোগ পাননি বাবর আজম। তিনি ৩০ মে থেকে শুরু হতে চলা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য তিনি মার্চে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে দল থেকে বাদও পড়েছিলেন। যদিও সেই সময় বাবরের বাদ পড়াও অনেকের ভ্রু কুঁচকে দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ওয়ানডেতে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বাবর। ১৭ ম্যাচে করেছিলেন ৫৪৪ রান। গড় ৭৭.১৬। সেই তিনি অজি বাহিনীর বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন। তাছাড়াও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে চার ইনিংসে তাঁর রান ছিল ৫৯, ১৫, ১৩ এবং ৯৪। তা সত্ত্বেও বাদ পড়লেন তিনি।
রিজওয়ান বাদ পড়ায় তাঁর জায়গায় উইকেটকিপার ব্যাটার হিসাবে রাখা হয়েছে মহম্মদ গাজি এবং রোহাইল নাজিরকে। অসুস্থতার কারণে নেই উসমান খান। চোটের জন্য নেই ফখর জামান, সাইম আয়ুব। পাক দলে ফেরানো হয়েছে নাসিম শাহ, সুফিয়ান মুকিম, শাদাব খানদের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ব্যর্থ শাহিন আফ্রিদিকেই ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ওয়ানডে দল
শাহিন আফ্রিদি (অধিনায়ক), সলমন আলি আঘা (সহ-অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, আহমেদ ড্যানিয়েল, আরাফত মিনহাস, বাবর আজম, হ্যারিস রউফ, মাজ সাদাকত, নাসিম শাহ, মুহাম্মদ গাজি (উইকেটরক্ষক), রোহাইল নাজির (উইকেটরক্ষক), সহিবজাদা ফারহান, শাদাব খান, সুফিয়ান মোকিম এবং শামিল হুসেন।
