মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১৬৬/৭ (তিলক ৫৭, নমন ৪৭, ভুবনেশ্বর কুমার ২৩/৪)
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ১৬৭/৮ (ক্রুণাল ৭৩, বেথেল ২৭, বশ ২৬/৪)
২ উইকেটে জয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল আরসিবি। ভুবনেশ্বর কুমারের ৪ উইকেটের পর ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার একার লড়াই। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ২ উইকেটে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নিজেদের প্লেঅফে ওঠার রাস্তা যেমন অনেকটা পরিষ্কার করে ফেলল, তেমনই চাপ বাড়ল নাইটদের উপর। ম্যাচ হেরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছিটকে গেল প্লেঅফের দৌড় থেকে। চোট নিয়ে অসাধ্যসাধন করে গেলেন ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। এক পায়ে লড়ে আরসিবি'র জয় নিশ্চিত করে দেন। আর শেষ বলে রান আউট হতে হতে আরসিবি'কে ম্যাচ জেতান রশিখ সালাম।
তার আগে বলতে হয় ভুবনেশ্বর কুমারের কথা। বয়স একটা সংখ্যা মাত্র! চিরকালীন এই প্রবাদকে ফের সত্যি প্রমাণ করছেন ভুবনেশ্বর। ৩৬ বছর বয়সে বলের সুইংয়ে ভিরমি খাচ্ছেন আজকালের নামকরা তারকারা। জাতীয় দলে হয়তো সুযোগ পাবেন না, কিন্তু নিজেকে প্রতিদিন ছাপিয়ে যাচ্ছেন। এই মুহূর্তে ২১ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে। রায়পুরের পিচে ফাটল আছে, সেটাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগালেন ভুবি। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। দ্বিতীয় ওভারেই রায়ান রিকেলটনকে ফেরান ভুবনেশ্বর। রোহিত শর্মা (২২) ভালো শুরু করেও ভুবির হাতে পরাস্ত। ঠিক পরের বলেই আউট সূর্য। তাঁর খারাপ ফর্মের ধারা অব্যাহত। পরপর দু'জনকে অনেকটা একই ভঙ্গিতে আউট করেন ভুবনেশ্বর। সেখান থেকে মুম্বইয়ের হাল ধরেন নমন ধীর ও তিলক বর্মা। দু'জনের ৮২ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে মুম্বই। নমন ৪৭ রান করে রশিখ সালামের বলে বোল্ড হন। ৫৭ রানের মাথায় তিলককে ফেরান সেই ভুবনেশ্বরই। রান পাননি উইল জ্যাকস, রাজ বাওয়া। যে কারণে মাত্র ১৬৬ রানে থেমে যায় মুম্বইয়ের ইনিংস। ভুবনেশ্বরের ৪ উইকেট ছাড়াও জশ হ্যাজেলউড, রশিখ ও রোমারিও শেফার্ড একটি করে উইকেট পান।
লক্ষ্য বড় নয়। তখন অনুমান করা যায়নি ম্যাচ কতটা টানটান হতে চলেছে। এবার সুইংয়ের ম্যাজিক দেখালেন দীপক চাহার। রায়পুরের পিচের সুযোগ নিতে তিনিও ছাড়লেন না। প্রথম বল মুখোমুখি হতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন বিরাট কোহলি। পরপর দুই ম্যাচে 'ডাক' করে ফিরলেন কোহলি। এরপর দেবদত্ত পাড়িক্কলকেও ফেরান চাহার। অল্প সময় পর পিচের বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়ে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারকে আউট করেন করবিন বশ। জ্যাকব বেথেল ১০০ স্ট্রাইক রেটে ২৭ রান করেন। এত ধীরেসুস্থে ব্যাট করে আরসিবি'র উপর চাপ বাড়িয়ে দেন। জিতেশ শর্মা (১৮) এই ম্যাচেও বড় রানের দেখা পেলেন না। একই ওভারে টিম ডেভিডকে ফেরান বশ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ইনিংসে এক ওভারে দুই উইকেট নিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর। আর সূর্যদের হয়ে সেই কাজটা করলেন বশ। শেষ পর্যন্ত তিনিও তুললেন ৪ উইকেট।
ব্যতিক্রম শুধু ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। তাঁর ভাই হার্দিক পাণ্ডিয়া চোটের জন্য এই ম্যাচে খেলছেন না। তবে আরেক পাণ্ডিয়া নিজের ছন্দে আছেন। তারকা ব্যাটাররা যেখানে এই পিচে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ক্রুণাল যেন অন্য পিচে ব্যাট করছিলেন। শুরুতে একটু নড়বড়ে দেখালেও চার-ছক্কা হাঁকাতে দেরি করেননি। তার মধ্যে চোটের জেরে একটা সময়ের পর কার্যত এক পায়ে খেলেন। সেই অবস্থাতেও চার-ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন। ৪টে চার ও ৫ ছক্কা মেরে ৪৬ বলে ৭৩ রান করেন। অবশেষে এল মহা নাটকীয় শেষ ওভার। ২৩ বছর বয়সি রাজ বাওয়ার হাতে দায়িত্ব তুলে দেন সূর্য। ওয়াইড, নো বল, রোমারিও শেফার্ডের উইকেট- কী ছিল না এই ওভারে! ভুবনেশ্বর কুমারের ছক্কার পরও শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। আর সেখানে রান আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে ২ রান সম্পূর্ণ করেন রশিখ সালাম। আর বেঙ্গালুরুও জিতল ২ উইকেটে। এখন ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে আরসিবি। প্লেঅফ কার্যত নিশ্চিত।
