রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ২২২/৪ (ভেঙ্কটেশ ৭৩*, কোহলি ৫৮, হরপ্রীত ৩৫/২)
পাঞ্জাব কিংস: ১৯৯/৮ (শশাঙ্ক ৫৬, স্টয়নিস ৩৭, ভুবনেশ্বর ৩৮/২)
২৩ রানে জয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
শেষ কবে ম্যাচ জিতেছিল পাঞ্জাব কিংস? প্রায় মাস খানেক আগে। মে মাসে দিল্লি ক্যাপিটালসের রানের পাহাড় টপকে জিতেছিলেন শ্রেয়স আইয়াররা। তারপর টানা হার। এবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২৩ রানে হারল প্রীতি জিন্টার দল। এই নিয়ে হারের ডবল হ্যাটট্রিক করে ফেলল পাঞ্জাব কিংস। টানা ৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে লিগ শুরু করেছিল, আর এখন প্লেঅফে ওঠাই কঠিন শ্রেয়সদের জন্য। প্রাক্তন নাইট তারকা ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ৭৩ রানের সৌজন্যে জিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের আইপিএলে প্রথম দল হিসেবে প্লেঅফে যোগ্যতা অর্জন করল আরসিবি। আর তার সুবাদে প্লেঅফের অঙ্কে নাইট রাইডার্সের সুবিধাই হল।
ধরমশালায় টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স। আরসিবি'র জেকব বেথেল এদিনও রান পেলেন না। তবে বিরাট কোহলি অবিচল। যত বয়স যাচ্ছে, তত পরিণত, তত ধারালো। অনেকেই আফসোস করতে পারেন, কেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেন? এদিন ৩৭ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে যান। ৪টে চারের পাশাপাশি ছিল ৩টি ছক্কা। যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ২৫ বলে ৪৫ রান করেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। চোটের জন্য আরসিবি'তে অধিনায়ক রজত পাতিদার ছিলেন না। সেখানে সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করলেন ভেঙ্কটেশ। ৪০ বলে ৭৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। নাইট জার্সিতে তাঁর ব্যাটে এরকম ইনিংসই দেখতে চেয়েছিলেন কেকেআর। যে কারণে দাম উঠেছিলেন ২২.৭৫ কোটি টাকা। সেটা না হওয়ায় আজ আরসিবি'তে। কিন্তু পুরনো দলের কঠিন সময়ে তাঁর ব্যাট কথা বলে উঠল। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৮টা চার ও ৪টে ছক্কা। শেষবেলায় টিম ডেভিড ১২ বলে ২৮ রান করেন। বেঙ্গালুরু তোলে ২২২ রান।
পাঞ্জাবের ব্যাটিংয়ের যা শক্তিতে তাতে এই রানটা তুলে দেওয়া কঠিন নয়। এই আইপিএলেই তিনবার ২০০-র বেশি রান তাড়া করে জিতেছে। কিন্তু একটা দল টানা হারতে থাকলে কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলে না। আর ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজেলউডদের দিয়ে সাজানো বেঙ্গালুরুর বোলিং আইপিএলের অন্যতম সেরা। সেটা প্রমাণ হয়ে গেল প্রথম চার ওভারেই। প্রিয়াংশ আর্য (০) ও প্রভসিমরন সিং (২), পাঞ্জাবের দুই ওপেনারই ফিরলেন ভুবির বলে। বেগুনি টুপিও তাঁর মাথায়। শ্রেয়স আইয়ারকে (১) ফেরালেন রসিখ সালাম। ১৯ রানে ৩ উইকেট থেকে পাঞ্জাবকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন কুপার কনোলি (৩৭) ও সূর্যাংশ শেডগে (৩৫)। তারপর একা কুম্ভ হয়ে লড়ে যান শশাঙ্ক সিং। সঙ্গে ছিলেন মার্কাস স্টোয়নিস (৩৫)। অজি তারকাকে ফেরান তাঁরই দেশীয় সতীর্থ। তবে ডেথওভারে লড়াই করেও দলকে জেতাতে পারেননি শশাঙ্ক। শেষ ওভারে ২৭ বলে ৫৬ রান করে আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৩ রানে হারে পাঞ্জাব।
এই ম্যাচের পর ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্লেঅফে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ্যতা অর্জন করল আরসিবি। সমসংখ্যক ম্যাচে পাঞ্জাবের পয়েন্ট ১৩। রইল চার নম্বরেই। শ্রেয়সদের হারে সুবিধা হল রাজস্থান (১১ ম্যাচে ১২), চেন্নাই (১২ ম্যাচে ১২) ও কলকাতার (১২ ম্যাচে ১১)। রাতে দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই রাজস্থানের। সেই ম্যাচের উপর প্লেঅফের বাকি জায়গাগুলোর অঙ্ক অনেকটাই নির্ভর করবে।
