বরুণ চক্রবর্তী কোথায়? মাথিশা পাথিরানাকেই বা দেখা যাচ্ছে না কেন?
আর আটচল্লিশ ঘটা পর ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। হার্দিক পাণ্ডিয়া নেতৃত্বাধীন টিমে অর্ধেক ভারতীয় টিম খেললে কী হবে, আইপিএল (IPL 2026) উনিশে তাদের দুর্দশা কহতব্য নয়। আগামী বুধবারের ইডেনে কেকেআরের বিরুদ্ধে তাদের জিতলেও আহামরি কোনও লাভ হবে না। হারলেও না। কারণ, ইতিমধ্যে মুম্বইয়ের প্লে অফ যাওয়ার সমস্ত সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছে। লিগ টেবিলের লাস্ট বয় তারা। কিন্তু কেকেআরের দিক থেকে মুম্বই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। প্লে অফের দৌড়ে যদি নাইটদের জীবিত থাকতে হয়, তা হলে মুম্বই এবং আগামী ২৪ মে-র দিল্লি ক্যাপিটালস-দু'টো যুদ্ধই জিততে হবে। এবং তাতে বরুণ-পাথিরানাকে প্রয়োজন। কিন্তু সোমবারের ইডেনে তাঁরা দু'জন কোথায়?
শোনা গেল, টিম ফিজিওর পরামর্শে দু'জনকেই এ দিন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বরুণের বিষয়টা বেশ জটিল। গতকাল সংবাদসংস্থা খবর করে যে, গত ১৬ মে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে 'চোটগ্রস্ত' বরুণকে খেলানো নিয়ে ভালো রকম রোষ তৈরি হয়েছে বোর্ডমহলে। বোর্ডের কেউ কেউ রুষ্ট ভাবে বলেন, বরুণের হেয়ারলাইন ফ্রাকচার হয়েছে। আরসিবির বিরুদ্ধে যিনি ১৩ মে নামতে পারেননি মাঠে, কোন 'জাদুবলে' সেই একই লোককে খেলিয়ে দেওয়া হল? গুজরাটের বিরুদ্ধে মাঠে দৃশ্যত অস্বস্তিতে দেখিয়েছে বরুণকে। বোঝাই যাচ্ছিল, চোট তাঁর সারেনি।
বোর্ডের বক্তব্য, বরুণ জাতীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজের স্বার্থে তাঁকে চোট থাকা সত্ত্বেও খেলিয়ে দিতে পারে না। এমনকী এমনও বলা হয় যে, বোর্ড ফিজিওর থেকে রিপোর্ট চাওয়া হবে। সে রকম হলে বরুণের নাইট জার্সিতে শেষ দুই ম্যাচ খেলা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারিও করা হতে পারে।
নাইট শিবির থেকে যদিও সংবাদসংস্থার খবরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে, যা করা হয়েছে, সমস্ত বোর্ড প্রোটোকল মেনে। এমনও দাবি করা হয়েছে যে, মঙ্গলবার বরুণ এবং পাথিরানা, দু'জনেই নাইট ট্রেনিংয়ে আসবেন। তবে পাথিরানার চোট বিরক্তি ছড়াচ্ছে নাইট সমর্থকদের মধ্যে। টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র আট বল করে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান পাথিরানা। সেটাই তাঁর প্রথম ম্যাচ ছিল। যাঁকে বিশাল আঠারো কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল কেকেআর। শ্রীলঙ্কা পেসার বুধবার না খেলতে পারলে, বিরক্তি উৎপাদন আরও বাড়বে।
তবে কেকেআর এখনও প্লে অফের আশা ছাড়ছে না। এ দিন দুপুরের দিকে টিম হোটেলে সমর্থকদের সঙ্গে কেকেআরের পাওয়ার কোচ আন্দ্রে রাসেলের একটা প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। সেখানে রাসেলকে এক সমর্থক জিজ্ঞাসা করেন, মাঠে টিমকে খেলতে দেখলে তাঁর এখনও নেমে পড়তে ইচ্ছে করে কি না? জবাবে রাসেল বলেন, "সেই সমস্ত দিন আমি ফেলে এসেছি। এখন আমার ভূমিকা অন্য। কাজ অন্য।" আর একজন রাসেলকে প্রশ্ন করেন নাইটদের প্লে অফ সম্ভাবনা নিয়ে। উত্থান-পতন মিশ্রিত আইপিএল উনিশের সফর নিয়ে। এবার রাসেল জবাব দেন, "ক্রিকেটে এমন হতেই পারে। তবে এখনও সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। এখনও আমরা প্লে অফ যেতে পারি।"
যার প্রথম ধাপ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জেতা। এ দিন কেকেআর আর মুম্বই, প্রায় কাছাকাছি সময়ে ট্রেনিং করেছে ইডেনে। এবং কোথাও যেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়াকে টিমের থেকে 'বিচ্ছিন্ন' দেখিয়েছে। সবই তিনি করছেন, ব্যাটিং-বোলিং, শুধু কেমন যেন গা ছাড়া। মাঝে তো মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে কিয়ৎ সময়ের জন্য ইনস্টাগ্রামে 'আনফলো' করে দিয়েছিলেন হার্দিক! এ দিন লম্বা সময় নাইট কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গেল পাণ্ডিয়াকে। রোহিত-বুমরারা তখন কেউ ব্যাটিং নিয়ে ব্যস্ত, কেউ বোলিং নিয়ে। যা প্রত্যক্ষ করার পর একটা চোরা প্রশ্ন উঠবেই।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে সব ঠিক আছে তো?
