৯.২ কোটি টাকায় বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। যদিও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল খেলা হয়নি তাঁর। যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তবে বাংলাদেশি পেসারকে দলে না থাকায় নাইটদের পেস আক্রমণে প্রভাব পড়েছে। যা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল।
মুস্তাফিজুরের আইপিএলে না খেলা নিয়ে নিয়ে সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ধুমাল বলেন, “আমি শুধু এটুকুই বলব, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। এর বাইরে আমার বিশেষ কিছু জানা নেই।” পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি না সরকার প্রতিদিনের ক্রিকেটের পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা বা বক্তব্য রেখেছে। সরকার সার্বিকভাবে ক্রিকেটকে সমর্থন করে। তবে হ্যাঁ, কখনও কখনও আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত, সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মালম্বী সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচারের কারণে কেকেআরের বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা নিয়ে সরব হয়েছিলেন দেশের বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ। তীব্র আক্রমণ করা হচ্ছিল কেকেআর মালিক শাহরুখ খানের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডকে। বলাবলি চলছিল, বাংলাদেশে যখন নির্বিচারে হিন্দু নিপীড়ন চলছে, তখন কোন যুক্তিতে মুস্তাফিজুরকে এখনও দলে রেখে দিয়েছে কেকেআর? কেন তাঁর সঙ্গে চুক্তি এখনই ছিন্ন করা হচ্ছে না?
এই পরিস্থিতিতে বিসিসিআইয়ের তরফে কেকেআর-কে বলা হয়, মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে। এরপর নিরাপত্তার দোহাই দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। সমস্যা সমাধানে বিসিবি’র সঙ্গে আইসিসি’র আলোচনাও চলছে। তবে জট এখনও ছাড়েনি। তৎকালীন ইউনুস সরকারের চাপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড। পরে বিশ্বকাপের সূচি থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। তবে এ ব্যাপারে এতদিন বিসিসিআই কর্তারা নীরব থাকলেও অবশেষে মুখ খুলেছেন আইপিএল চেয়ারম্যান।
