লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট হারের পরই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিসবাহ উল-হক। তার পরেই রবিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। নাম না করলেও তাঁর নিশানায় যে বোর্ডের শীর্ষকর্তারাই, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। বারবার ভারতের কাছে হেরে পিছিয়ে পড়ছে পাকিস্তান। এরজন্য তিনি কাঠগড়ায় তুললেন মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পাক ক্রিকেট বোর্ডকে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রাক্তন স্পিনার মুস্তাক আহমেদও তোপ দেগেছেন পিসিবি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তাঁর জন্যই দেশে কাজ করতে ভয় পান বলে অভিযোগ ’৯২-এর বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারের।
মিসবাহের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে (Pakistan Cricket) দেশি ও বিদেশি কোচেদের ক্ষেত্রে সমান মনোভাব দেখা যায় না। বিদেশি কোচেরা তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা এবং সহানুভূতি পান। তাঁর কথায়, "পাকিস্তানে স্থানীয় ও বিদেশি কোচেদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটাই আলাদা। বিদেশি কোচেদের তুলনায় দেশি কোচেদের অনেক বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বিদেশি কোচেদের নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সমর্থক, সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বোর্ড– সকলেই বিদেশি কোচেদের প্রতি যেন একটু বেশি নরম।" বিদেশি কোচেদের হাতে বাড়তি ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিসবাহ। তাঁর মন্তব্য, "বিদেশি কোচেদের আমরা অনেক বেশি কর্তৃত্ব দিয়ে দিই। দল খারাপ খেললেও তাঁদের উপর ব্যর্থতার দায়টা তুলনামূলক ভাবে কম পড়ে। অথচ কোনও স্থানীয় কোচ দায়িত্বে থাকলে সবার আগে তাঁকেই কাঠগড়ায় তোলা হয়।"
মিসবাহের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে দেশি ও বিদেশি কোচেদের ক্ষেত্রে সমান মনোভাব দেখা যায় না। বিদেশি কোচেরা তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা এবং সহানুভূতি পান।
বারবার কোচ বদলের সংস্কৃতিকেও পাকিস্তান ক্রিকেটের পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন মিসবাহ। তাঁর মতে, এতে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ থাকে না। সাফল্যের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য। একই সঙ্গে লাগে ধারাবাহিকতা। এর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে দীর্ঘ দিন কাজ করে যেতে হয়। আর এখানেই ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন মিসবাহ। তাঁর মতে, ভারত রাতারাতি সাফল্য পায়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করেছে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কীভাবে ভারতীয় ক্রিকেট ধীরে ধীরে নিজেদের ভিত শক্ত করেছে।
ডানদিক থেকে মিসবাহ উল-হক, মহসিন নকভি, মুস্তাক আহমেদ। ফাইল ছবি।
পাকিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিসবাহ। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমাদের তরুণ ক্রিকেটারেরা সাদা বলের ক্রিকেটেই বেশি ব্যস্ত। লাল বলের ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র কমে যাচ্ছে। চার দিনের ম্যাচও যথেষ্ট খেলছে না। তাই কঠিন পরিস্থিতিতে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাও কম থাকছে। ভারত কিন্তু এক দিনে এই জায়গায় পৌঁছয়নি। একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা সময় নিয়ে নিজেদের উন্নতি করেছে। নব্বইয়ের দশক থেকে সেই পরিবর্তন ধীরে ধীরে এসেছে। তাই দ্রুত কোনও সমাধান আশা করলে চলবে না।"
ইংল্যান্ডে পরপর দুই টেস্টে হারের পর সিরিজের মাঝেই প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দিয়েছিলেন নকভি। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মুস্তাক আহমেদ।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডে পরপর দুই টেস্টে হারের পর সিরিজের মাঝেই প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দিয়েছিলেন নকভি। তাঁদের জায়গায় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ঘটনার উদাহরণ টেনে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বর্তমানে বাংলাদেশের তিন বোলিং কোচ মুস্তাক আহমেদ 'বিবিসি'-র একটি পডকাস্টে বলেন, "আমি দেশের হয়ে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে এই সময়ে। কিন্তু নিজের দেশেই কাজ করতে ভয় লাগে। কারণ, ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এমন একজন, যিনি অকারণে মানুষকে অসম্মান করেন। কোনও কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেন। সিরিজ চলাকালীনই যখন কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন ভয় লাগাটাই স্বাভাবিক।"
