shono
Advertisement
Durga Puja 2026

চৈতন্যভূমে দেবী দুর্গাই দ্বিভুজা ‘মা অভয়া'! বাহন গোসাপ, সঙ্গী বালকরূপী মহাদেব

সময়ের সঙ্গে বদলেছে নবদ্বীপ। বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা। উৎসবের আয়োজনেও আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তবে প্রায় আড়াই শতাব্দীরও বেশি সময় ভক্তদের বিশ্বাসে অটুট—নবদ্বীপের অভয়া মাতা।
Published By: Subhankar PatraPosted: 07:41 PM Sep 08, 2026Updated: 09:27 PM Sep 08, 2026

শ্রীচৈতন্যদেবের মাটি নবদ্বীপ। নিমাইয়ের ভূমিতে ছড়িয়ে প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্যের নানা অধ্যায়। আর সেই ঐতিহ্যেরই অন্যতম অঙ্গ 'মা অভয়া'। দেবী দুর্গাই এখানে অভয়া নামে পূজিত। এখানে তিনি দ্বিভুজা। ডান হাতে বরাভয় মুদ্রা। বাঁ হাতে রয়েছে একটি রহস্যময় ভগ্নাংশ! পাদদেশে রয়েছে সরীসৃপজাতীয় একটি প্রাণীর আকৃতি, যাকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ গোধিকা বা গোসাপ বলে অনুমান করেছেন। নেই সন্তান-সন্ততি। সঙ্গে রয়েছে এক বালক। এই শিশু বালকরূপী মহাদেব! এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের। পুজোয় ২৭৩ বছরের জাগ্রত অভয়া মায়ের কাছে পৌঁছতে ঢল নামে ভক্তদের।

Advertisement

দেবী ভগবতী দীর্ঘদিন ধ্যানরত ছিলেন। তা ভঙ্গ করতে আসেন স্বয়ং মহাদেব। না পেরে তিনি বালকের রূপ ধারণ করে দেবীর সামনে উপস্থিত হন। দেবী তাঁকে ডান হাতে আশীর্বাদ করেন। বাঁ হাতে ধরে রাখেন। এই বিশেষ রূপের সঙ্গেই জড়িয়ে ‘অভয়া’ নামের ব্যাখ্যা।

নবদ্বীপের নেতাজি সুভাষ রোডের পাঁচমাথার দক্ষিণ অঞ্চল। এই স্থানই আজ পরিচিত ‘অভয়া মা-তলা’ নামে। ইতিহাসের পাতা ওলটালেই জানা যায়, সালটা আনুমানিক ১৭৫০। মাটি খননের সময় উদ্ধার হয় একটি অতি ক্ষুদ্র ধাতব দেবীমূর্তি। সেটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ সেন্টিমিটার। প্রস্থ ৩.৫ সেন্টিমিটার। এই ধাতব মূর্তি উদ্ধারের পর তৎকালীন সমাজপতিরা সেই মূর্তিকে সামনে রেখে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণের বিধান দেন। পরে তৈরি হয় মন্দিরও। বর্তমানে মন্দিরটি হেরিটেজ স্বীকৃতিও লাভ করেছে।

দেবীর এই রূপের পৌরাণিক মত রয়েছে। বলা হয়, দেবী ভগবতী দীর্ঘদিন ধ্যানরত ছিলেন। তা ভঙ্গ করতে আসেন স্বয়ং মহাদেব। না পেরে তিনি বালকের রূপ ধারণ করে দেবীর সামনে উপস্থিত হন। দেবী তাঁকে ডান হাতে আশীর্বাদ করেন। বাঁ হাতে ধরে রাখেন। এই বিশেষ রূপের সঙ্গেই জড়িয়ে ‘অভয়া’ নামের ব্যাখ্যা।

মাটি খননের সময় উদ্ধার হয় একটি অতি ক্ষুদ্র ধাতব দেবীমূর্তি। সেটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ সেন্টিমিটার। ধাতব মূর্তি উদ্ধারের পর তৎকালীন সমাজপতিরা সেই মূর্তিকে সামনে রেখে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণের বিধান দেন।

ইতিহাস বা দেবীর ব্যতিক্রমী রূপ নয়, অভয়া মায়ের পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে মানুষের গভীর বিশ্বাস! নবদ্বীপের বাসিন্দারা তো বটেই পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকা ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তরা আসেন দেবী দর্শনে। ভক্তদের বিশ্বাস, অভয়া মায়ের চরণে প্রার্থনা জানালে মনের আশা পূর্ণ হয়। দুর্গা অষ্টমী ঘিরে এখানে ভক্ত সমাগমও চোখে পড়ার মতো। দেবীর সেবায়েত জানাচ্ছেন, অষ্টমীর দিন রাত দু'টো থেকেই ভক্তদের লাইন পড়ে। নবদ্বীপ-সহ দূরদূরান্ত থেকে প্রায় ২৫ হাজার পুণ্যার্থী আসেন।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে নবদ্বীপ। বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা। উৎসবের আয়োজনেও আমূল পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় আড়াই শতাব্দীরও বেশি সময় ভক্তদের বিশ্বাসে অটুট—নবদ্বীপের অভয়া মাতা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement