চেন্নাই সুপার কিংস এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি যেন সমার্থক। আইপিএলের সেই প্রথম মরশুমে সেই যে রেকর্ড অঙ্কে মাহিকে কিনে নিল চেন্নাই, তারপর ওই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গিয়েছে তাঁর নাম। কিন্তু ২০ বছর বাদে সম্ভবত ধোনির সিএসকে অধ্যায়ে ইতি পড়তে চলেছে। ক্রিকেটার হিসাবে তো বটেই, আর কোনওভাবেই সম্ভবত ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। নেপথ্যে ব্যবসায়ীক টানাপোড়েন।
আসলে ধোনির সঙ্গে সিএসকের মালিকদের সম্পর্ক ভালো। সূত্রের খবর, সেই সুবাদেই মাহি ফ্র্যাঞ্চাইজির ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনে নেওয়ার আবদার করেছিলেন। বাজারদর অনুযায়ী উপযুক্ত মূল্য দিয়েই ওই মালিকানা কেনার ইচ্ছা ছিল প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা মাহির সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁরা বড়জোর ৩ শতাংশ শেয়ার ধোনির কাছে বিক্রির ব্যাপারে সম্মতি জানান। বেশ কিছুদিন দরদাম চলে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। সূত্র বলছে, শেষপর্যন্ত ধোনি নিজের দাবি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত করতে রাজি হন। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনওভাবেই ৫.৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বেচতে রাজি হয়নি।
উপরের সব দরদাম যা হওয়ার মৌখিকভাবে হয়েছে। কিছুই লিখিতভাবে হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, দলের মালিকানা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ মাহি। এতটাই যে, ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলতে পারেন তিনি। এমনিতে গত মরশুমে দলে থাকলেও হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামতে দেখা যায়নি তাঁকে। চোটের জন্য পুরো মরশুমই কাটিয়েছেন ডাগআউটে। এ বছর আর নতুন করে তাঁর সিএসকের জার্সি গায়ে চাপানোর সম্ভাবনা নেই।
ক্রিকেটার হিসাবে না নামলেও ধোনিকে অন্য কোনও দায়িত্ব ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত রাখতে চায় চেন্নাই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ধোনি ম্যানেজমেন্টের উপর এতটাই ক্ষুব্ধ যে কোনওভাবেই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। অন্তত এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্র তেমনটাই বলছে। যদিও ম্যানেজমেন্ট এখনও ধোনির শিবিরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জানে, সিএসকের নামের পাশে ধোনির নাম না থাকলে ব্র্যান্ড সিএসকে বিরাট ধাক্কা খাবে।
