মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে (WPL) অনন্য নজির গড়েছেন নন্দনী শর্মা (Nandini Sharma)। গুজরাট জায়ান্টসের বিরুদ্ধে দিল্লি ক্যাপিটালসের এই পেসার রবিবার হ্যাটট্রিক করেছেন। গোটা ম্যাচে তিনি ৫ উইকেটও পান। এই কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন দিল্লির দুই সতীর্থকে। তাঁরাই নন্দনীকে নিয়মিত উৎসাহিত করে গিয়েছেন।
২৪ বছরের এই পেসার কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অধিনায়ক জেমাইমা রডরিগেজ এবং শেফালি বর্মাকে। তিনি বলেন, "বিশেষ কিছু ভাবিনি। কেবল নির্দিষ্ট জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। জেমাইমা ও শেফালি সব সময় কথা বলেছে। প্রতি বলের আগে উৎসাহ জুগিয়েছে। তবে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নিয়ে বল করিনি। কেবল উইকেটের সোজাসুজি বল করার চেষ্টা করেছি। আমি যে উইকেট পেতে পারি, সেটা বারবার ওরা বলছিল। তবে হ্যাটট্রিক পাব, সেটা কল্পনা করতে পারিনি।"
৩৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন নন্দনী। গুজরাটের ইনিংসের শেষ ওভারে কণিকা আহুজা, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় এবং রেণুকা সিং ঠাকুরকে পরপর সাজঘরে ফেরান তিনি। এর ফলে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রথম বোলার হিসাবে ডব্লিউপিএলে হ্যাটট্রিক করার নজির গড়েছেন তিনি। তবে তাঁর আগে ডব্লিউপিএলে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইসি ওং (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স), গ্রেস হ্যারিস (ইউপি ওয়ারিয়র্স) এবং দীপ্তি শর্মা (ইউপি ওয়ারিয়র্স)। অর্থাৎ দ্বিতীয় ভারতীয় বোলার হিসাবে মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন বলে উইকেট নিজে ইতিহাস গড়লেন।
নন্দনীর সংযোজন, "প্রথম দিকে বিপক্ষ ব্যাটাররা আমার বলগুলো পড়ে ফেলছিল। সেই কারণে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করি। এতে লাভই হয়েছে। মাঠে খেলা দেখতে এসেছিলেন আমার মা, ভাই-সহ কিছু বন্ধু আমার মা, ভাই এবং কয়েকজন বন্ধু। পরিবারের অন্য সদস্যরা টিভিতে খেলা দেখেছে। আমার খেলাধুলার ব্যাপারে ওদের পূর্ণ সমর্থন আছে। তাই খোলা মনে খেলতে পারি।"
সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ সফল হয়েছেন তিনি। চণ্ডীগড় এবং উত্তরাঞ্চলের হয়ে খেলেছেন। তাঁর রাজ্য দলের চণ্ডীগড়ের অধিনায়কত্বও করেছেন। মহিলাদের জাতীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন। সেই কারণেই ২০ লক্ষ টাকায় তাকে কেনে দিল্লি ক্যাপিটালস। এই মরশুমের প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক হয়। উল্লেখ্য, হ্যাটট্রিক-সহ ৫ উইকেট নিলেও গুজরাটের কাছে চার রানে হেরে গিয়েছে নন্দনীর দল।
