সিরিজের প্রথম টেস্টে অধিনায়ক। বাদ পড়লেন দ্বিতীয় টেস্টে। তৃতীয় টেস্টের আগে অধিনায়ককে সোজা তুলে দেওয়া হল দেশে ফেরার বিমানে! এমন আজব ঘটনা ঘটেছে পাক ক্রিকেটে। ফলে আবারও ক্রিকেটদুনিয়ায় হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি এতটাই হাস্যকর যে প্রাক্তন পাক ক্রিকেটাররা পর্যন্ত নিজের দেশের বোর্ডকে তুলোধোনা করতে ছাড়ছেন না। পড়শি দেশকে খোঁচা দিচ্ছে ভারতও।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে গিয়ে প্রথম দুটো টেস্ট হেরেছে পাকিস্তান। তারপরই গণছাঁটাই শুরু হয়েছে পাক ক্রিকেটে। মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সলমন আলি আঘা, আলি উসমান, আমির জামাল, মহম্মদ জাফর ও খুররামকে তুলে দেওয়া হয়েছে দেশে ফেরার বিমানে। ফেরত পাঠানো হয়েছে কোচ সরফরাজ আহমেদকেও। তৃতীয় টেস্টের আগে সাতজনকে পাঠানো হচ্ছে ইংল্যান্ডে। এই ঘটনায় চর্চা চলছে ক্রিকেটবিশ্বে। সিরিজের মাঝপথে এভাবে সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা মনে পড়ছে না কারোওরই।
গোটা ঘটনায় পাক বোর্ডকে বিঁধেছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক রামিজ রাজা। বলছেন, "গোটা ঘটনায় আমার রীতিমতো শক লেগেছে। ক্রিকেটে এমনটা চলতে পারে না। সিরিজে এমন দুর্দশা দেখে বোর্ড হয়তো নড়েচড়ে বসেছে। কিন্তু পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, এইভাবে ক্রিকেটারদের ফেরত পাঠানো যায় না। বলা যেতে পারে, পাকিস্তান তো বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলল। যেসব ক্রিকেটারকে ছেঁটে ফেলা হল এবং যেসব ক্রিকেটারকে তাড়াহুড়ো করে দলে নেওয়া হল-কারোর পক্ষেই বিষয়টা ভালো নয়। আমি এখনও নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করছি গোটা বিষয়টা নিয়ে।"
পাক বোর্ডের এহেন পদক্ষেপে খোঁচা দিয়েছেন ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলেও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'পাকিস্তানের উপর ভরসা রাখুন, ওরা অনবদ্য কিছু করে দেখাবে। প্রথম টেস্টের অধিনায়ক সলমন আলি আঘাকে তৃতীয় টেস্টের আগে দেশে ফেরত পাঠানো হল। যারা পরিবর্ত হিসাবে ডাক পেল, তারা সঠিক সময়ে ভিসা পাবে কিনা ঠিক নেই, ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া তো কোন ছার। আসলে পাকিস্তান মানেই মাঠের বাইরে বেশি সক্রিয়।' মাঠে যেমন বেহাল দশা, মাঠের বাইরেও ঠিক তেমনই।
