বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠলেও শেষমেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজুড়ে হতশ্রী পারফরম্যান্স পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের। তার উপর বাংলাদেশের সঙ্গেও ওয়ানডে সিরিজে পর্যুদস্ত হতে হয়েছে সলমন আলি আঘা, শাহিন শাহ আফ্রিদিদের। লাগাতার ব্যর্থতার পর নিজেদের দেশেও প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। তাঁকে নিশানা করেছেন পাক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ। তাঁর অভিযোগ, বোর্ডের ভুল নীতি এবং দল নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বই অধঃপতনের মূল কারণ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ক্ষোভ উগরে দেন শেহজাদ। তিনি বলেন, "পিসিবি পাঁচ-সাত বছর আগে পাকিস্তান সুপার লিগের মাধ্যমে যে মানের ক্রিকেটারদের ব্র্যান্ড হিসাবে তুলে ধরেছিল, বর্তমান ক্রিকেটারদের মান একেবারেই সেই পর্যায়ে নয়। এই ৬-৮ জন খেলোয়াড়ই এখন পিএসএল এবং পাকিস্তান দলের মুখ। এরা কীভাবে দেশের ভাগ্য বদলাবে?"
শেহজাদের আরও অভিযোগ, বোর্ড নির্দিষ্ট কয়েকজন ক্রিকেটারকেই বাড়তি সুবিধা দিয়ে এসেছে। "আপনারা গুনে গুনে কয়েকজনকেই স্পনসরশিপ দিয়েছেন। ওদের হয়ে প্রচার করেছেন। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। পিএসএলে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন। এমনকী পাকিস্তান দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ওদের হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু ওরা কী দিয়েছে? মাঠের সাফল্যের বদলে ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত থেকেছে ওরা। দেশের জন্য বড় কোনও জয় এনে দিতে পারেনি," মন্তব্য শেহজাদের।
খেলোয়াড়দের দায়িত্বজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, "এত বড় ব্যর্থতার পরও একজন খেলোয়াড়ও দায় স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়। এখনও দোষারোপের খেলাই চলছে। কিন্তু তাঁদের অহংকার ভাঙছে না। বর্তমান পিসিবি এতটাই দুর্বল যে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।" শেহজাদের সংযোজন, "যখনই কোনও খেলোয়াড়ের সমালোচনা হয়, তখনই নানা গল্প তৈরি করা হয়। আমার জীবনে এত দুর্বল পিসিবি আমি দেখিনি। নতুন প্রতিভা তুলে আনার কাজ তাদের করার কথা ছিল। তা হয়নি। বরং প্রতিটি টুর্নামেন্টের পর নতুন নতুন কৌশল দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন সাধারণ মানুষও এসব বুঝে গিয়েছে।" উল্লেখ্য, এর আগে নকভিকে নিশানা করে প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার কামরান আকমল বলেছিলেন, “যদি অন্য দলগুলিকে হারাতেই না পারো, তাহলে এবার কি আইসিসি ট্রফিও চুরি করে দেশে নিয়ে আসবে?”
