নিষিদ্ধ ড্রাগ নিয়েই পিএসএল (PSL) খেলছেন পাক তারকা! অন্তত তেমনই খবর সামনে এসেছে। নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহারের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার মহম্মদ নওয়াজ। তাঁর বিরুদ্ধে বিনোদনমূলক মাদক ব্যবহারের অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বিষয়টি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
জানা গিয়েছে, চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সংগৃহীত নমুনায় ‘রেক্রিয়েশনাল ড্রাগ’ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে ৩২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। পিসিবি’র এক মুখপাত্র বলেন, “আইসিসি ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আজই সেই প্রক্রিয়ার ফলাফল আইসিসিকে জানানো হবে।” তবে আইসিসি এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ওই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল পজিটিভ আসে। বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচেই খেলেছেন নওয়াজ। টুর্নামেন্টে পাঁচ ইনিংসে মাত্র ১৫ রান করেন তিনি। পেয়েছেন সাতটি উইকেট। পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলেছিল। তবে সুপার এইট থেকেই বিদায় নিয়েছিল সলমন আলি আঘার দল।
ঘটনার প্রভাব পড়েছে নওয়াজের পেশাদার কেরিয়ারেও। ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার কথা ছিল তাঁর। সম্প্রতি পিসিবির কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই বিতর্ক সামনে আসতেই সেই চুক্তি বাতিল করে গিয়েছে। ফলে আর ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া হচ্ছে না নওয়াজের। পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের বিষয়ে আপাতত কোনও মন্তব্য করতে চায়নি ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব। উল্লেখ্য, ২৬ মে থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই লিগ।
অন্যদিকে, তদন্ত চললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। পাকিস্তান সুপার লিগে নওয়াজ খেলেন মুলতান সুলতানসের হয়ে। সেখানেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। চার ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩৬ রান। নিয়েছেন ৬ উইকেট। গড় ৩২.৬৬। তবে ওভার পিছু দিয়েছেন ১০.৮৮ করে রান। সম্প্রতি করাচিতে রাওয়ালপিণ্ডির বিরুদ্ধে ম্যাচে তিন ওভার বল করে কোনও উইকেট পাননি তিনি। এখন দেখার, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নওয়াজের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়। ডোপিং-বিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে পারেন। এখনও পর্যন্ত ঠিক কোন মাদক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বা কবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পিসিবি'র শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
