জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের মেয়াদ কি বাড়ানো হবে? ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত দল নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন প্রাক্তন পেসার? সবটাই নির্ভর করছে রোহিত শর্মাকে নিয়ে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপর। বিসিসিআই কর্তারা আগরকরকে সাফ বলে দিয়েছেন, আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে রোহিতকে দলে রাখতেই হবে। তাঁর উপর অবসরের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। সেটা করতে চাইলে মেয়াদ শেষের পর আর নির্বাচক পদে তাঁকে রাখা হবে না। বোর্ড কর্তারা মোটামুটিভাবে আগরকরের বদলিও ঠিক করে ফেলেছেন। প্রাক্তন পেসার জাহির খানকে ভাবা হচ্ছে বদলি হিসাবে।
নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের চুক্তির পরও নির্বাচক প্রধানের চুক্তি একবছর বাড়ানো যেতে পারে। নির্বাচক হিসাবে আগরকরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসে। আগরকর আগামী বছর বিশ্বকাপ পর্যন্ত নির্বাচক থাকতে চান। কিন্তু তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দিহান বোর্ড কর্তারা। এটার মূল কারণ রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে গত মাসে ভারতীয় ক্রিকেটে যে 'নাটক' হয়ে গিয়েছে, সেটা নাপসন্দ বোর্ড কর্তাদের। আসলে গত মাসে ইংল্যান্ডে সিরিজের মাঝেই রোহিতকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁকে আর জাতীয় দলের জন্য ভাবা হবে না। নির্বাচকদের বার্তায় বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ রোহিত সরাসরি অভিযোগ করেন বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের। কর্তারা এরপরই হস্তক্ষেপ করেন।
শোনা যাচ্ছে, অবসর নিয়ে রোহিত শর্মার উপর যেভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা একেবারে নাপসন্দ ভারতীয় বোর্ডের। যেভাবে রোহিতকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেটে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ বিসিসিআই। আগরকরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য বোর্ড কর্তারা শনিবারই তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানেই জানিয়ে দেওয়া হয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ়ে রোহিতকে বাদ দেওয়া যাবে না। ওই দলে ভারতকে রাখতেই হবে।
ভারতীয় ক্রিকেটে এভাবে নির্দিষ্ট একজন ক্রিকেটারের জন্য বোর্ড কর্তারা চাপ দিচ্ছেন সেটা বিরল। দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নির্বাচকরাই নেন। কিন্তু রোহিতের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। আসলে গম্ভীর এবং আগরকরের সঙ্গে রোহিতের ঠান্ডা লড়াই বেশ কিছুদিন ধরেই চলেছে। আর এই মুহূর্তে সেই লড়াইয়ে খানিকটা এগিয়ে হিটম্যান। সেকারণেই আগরকরের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বোর্ড। যা পরিস্থিতি তাতে আগরকরকে চাকরি বাঁচাতে রোহিতকে দলে রাখতেই হবে। যদিও তারপরও আগরকরের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত নয়।
