তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের বরেণ্য চরিত্র। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের পেস-মানচিত্রে ভারত যে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে, তাতে জশপ্রীত বুমরাহর মতোই সমপরিমাণ অবদান তাঁর। মহম্মদ শামিকে ভারতীয় টিম আর না ডাকতে পারে। না খেলাতে পারে। কিন্তু তাঁর অবদান উপেক্ষা করবে কে? ভারতীয় পেস বোলিংয়ের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তাঁকে ছাড়া। এ হেন শামির শততম কীর্তি বরণ করল সিএবি। তাছাড়াও দলীপ ফাইনালের আগে দলকে পেপটক দিয়েছেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলতে চলেছেন শামি। এখন জাতীয় দলে ব্রাত্য হলেও একার কাঁধে দলকে ম্যাচ জেতাতে পারেন। দলীপ ট্রফির ফাইনালে পূর্বাঞ্চলের হয়ে সেই কাজটা করে নির্বাচকদের ফের বার্তা দিতে চাইবেন বাংলার পেসার। বিসিসিআই হয়তো উচ্চবাচ্য করছে না। কিন্তু সিএবি থেকে শততম ম্যাচে বিশেষ সম্মান দেওয়া হল। চেন্নাইয়ে এই ম্যাচের আগে সিএবি থেকে তাঁর হাতে উপহার তুলে দেওয়া হল।
শামির হাতে তুলে দেওয়া হল সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সই করা বল। ছবি সংগৃহীত।
২০১০ সালে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় শামির। দু’বছর পর পূর্বাঞ্চলের দলীপ ট্রফি জয়ের দলেও ছিলেন। আর ১৪ বছর পর ফের দলীপের ফাইনালে পূর্বাঞ্চল। যেটা আবার শামির শততম ম্যাচ। চিপক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের আগে সিএবি’র তরফ থেকে একাধিক উপহার পেলেন 'সাহসপুর এক্সপ্রেস'। তাঁর হাতে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সই করা একটি বল দিলেন বঙ্গক্রিকেট সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। এখানেই শেষ নয়। উপহার হিসাবে ছিল '১০০' লেখা জার্সি। এক কেজি ওজনের বিশেষ রুপোর স্মারকও ছিল শামির জন্য। তিনি কেকও কাটেন।
পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিষানের হাতে তুলে দেওয়া হল সৌরভের বার্তা লেখা স্মারক। ছবি সংগৃহীত।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৯৯টা ম্যাচ খেলেছেন শামি। উইকেট সংখ্যা ৩৮২। পাঁচবারের বেশি উইকেট নিয়েছেন ১৫ বার। দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৯০০ উইকেট শিকার করেছেন শামি। ১৪৯টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে তাঁর রয়েছে ২৮৩টি উইকেট। তিনি ১৯৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৩৮ জন ব্যাটসম্যানকে আউট করেছেন। এই কৃতিত্ব অর্জনকারী ষষ্ঠ ভারতীয় ফাস্ট বোলার হলেন শামি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আর দেশের হয়ে খেলেননি তিনি। বলা ভালো, আর খেলানো হয়নি তাঁকে। কিন্তু শামির কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখল সিএবি।
'সাহসপুর এক্সপ্রেসে'র হাতে বিশেষ রুপোর স্মারক। ছবি সংগৃহীত।
তবে দলীপ ফাইনাল জেতা সহজ হবে না শামি-বৈভবদের পক্ষে। দক্ষিণাঞ্চল টিম এমনিই শক্তিশালী ছিল এত দিন। তিলক বর্মা দুর্দান্ত খেলছিলেন। কিন্তু ফাইনালে আরও তিনজন যুক্ত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চল টিমে। তিন ভারতীয় ক্রিকেটার। তাঁরা– মহম্মদ সিরাজ, কেএল রাহুল এবং সদ্য সমাপ্ত ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজের 'ম্যান অফ দ্য সিরিজ' দেবদত্ত পাড়িক্কল। এমন কঠিন ম্যাচে নামার আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বার্তাও পাঠিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'ফাইনাল কেবল অংশ নেওয়ার জন্য নয়, খেলা হয় জেতার জন্য। আক্রমণাত্মক খেলো। একে অপরের জন্য খেলো। ইস্ট জোনকে গর্বিত করো। দলীপ ট্রফি ঘরে এনো তোমরা। শুভকামনা।' এই বার্তা লেখা স্মারক তুলে দেওয়া হয় শামি, ঈশান কিষান, বৈভব সূর্যবংশীদের হাতে। এবার দেখার, নিজের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে শামি দক্ষিণাঞ্চল-বধের মতো কঠিন কাজকে সহজ করে দেন কিনা?
