কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাকে চাপের মুখে 'ব্যাটিং পাঠ' শিখিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ২৯৯ রানের ইনিংস রনজি ট্রফির ইতিহাসে অন্যতম সেরা। বলা হচ্ছে সুদীপ কুমার ঘরামির কথা। কল্যাণীতে যেখানে শেষ করেছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরিতেই প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে রনজি সেমিতে প্রথম দিনের শেষে বাংলার রান ৫ উইকেটে ২৪৯।
রনজি সেমিফাইনালের আগে শনিবারের কল্যাণীতে বঙ্গ ড্রেসিংরুমকে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে দূরন্ত পারফরম্যান্সের পর কোয়ার্টারেও অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়। সবচেয়ে বড় কথা, একটা সময় বাংলা বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল, সেখান টিম প্রত্যাবর্তন করে। জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ছবি দেখা গেল। সৌজন্যে সেই সুদীপ। তিনিই যেন বাংলার 'রক্ষাকর্তা'।
রবিবার কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক পরশ ডোগরা। ইনিংসের গোড়ায় শূন্য রানে ফেরেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। এরপর অবশ্য বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ এবং সুদীপ ঘরামি বুঝেশুনে খেলছিলেন। তবে বিপক্ষ দলে রয়েছেন 'কাশ্মীর এক্সপ্রেস' আকিব নবি। দুই মরশুমে তাঁর নামের পাশে ৯০ উইকেট। যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং এক লহমায় বদলে দিতে পারেন তিনি। সেটাই দেখা গেল। দুরন্ত ফর্মে থাকা পেসারের দুর্ধর্ষ বলে হাফসেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিমন্যু। বিনা স্কোরে ফিরে যান সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালও। আবারও ব্যর্থ অনুষ্টুপ মজুমদার (১৪)।
এরপর সুদীপের সঙ্গে রুখে দাঁড়ান শাহবাজ আহমেদ। ১৪৭ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করলেন সুদীপ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটা তাঁর অষ্টম সেঞ্চুরি। তবে দিনের শেষের ওভারে ৪২ রানে আউট হলেন শাহবাজ আহমেদ। প্রথম দিনের শেষে বাংলা ২৪৯/৫। এখনও সুমন্ত গুপ্ত, শাকির হাবিব গান্ধীরা রয়েছেন। তাই প্রথম ইনিংসে বড় রান আশা করছেন সমর্থকরা। জম্মু-কাশ্মীর যদি নবিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তাহলে বাংলার পেস অ্যাটাকেও শামি-আকাশ-মুকেশরা রয়েছেন। যে বোলিং অ্যাটাক এই মুহূর্তের ভারতের সেরা। তাই রনজির সেমি-যুদ্ধ যে সেয়ানে সেয়ানে হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
