একটা সময়ে বিসিসিআইয়ের সর্বময় কর্তা ছিলেন। সেই অনুরাগ ঠাকুরকে আবারও দেখা যেতে পারে ভারতীয় বোর্ডে। বিসিসিআইয়ের পদাধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি নেতার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ আবারও আইনি পদ্ধতি মেনে অনুরাগকে দেখা যেতে পারে ভারতীয় বোর্ডের সর্বেসর্বা হিসাবে।
২০১৭ সালে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডে স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রাক্তন বিচারপতি আর এম লোধার নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল। সেই কমিটি বোর্ডকে বেশ কিছু সুপারিশ করে। এক রাজ্য এক ভোট, সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বোর্ডের কোনও পদাধিকার পাবেন না, জোন ভিত্তিক নির্বাচক না বেছে গোটা দেশ থেকে তিনজন নির্বাচক বাছা হোক বলে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ মানা তো দূর অস্ত, দিনের পর দিন কমিটির সুপারিশের বিরুদ্ধাচরণ করে যাচ্ছিল বোর্ড। শেষ পর্যন্ত লোধা কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অপসারণ করা হয় তৎকালীন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট অনুরাগকে।
কেবল অপসারণই নয়, আগামী দিনে বিসিসিআইয়ে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রেও অনুরাগের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বিজেপি সাংসদ। অনুরাগের আইনজীবী জানান, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা চাপানো রয়েছে। ইতিমধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন অনুরাগ। তাই লোধা কমিটির বিরোধিতা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট অনুরাগের উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনে বিসিসিআইয়ের কাজে আবারও ফিরতে পারেন অনুরাগ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম হিসাবে বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন অনুরাগ। কিন্তু কয়েকমাসেই কুর্সি হারাতে হয় তাঁকে। তবে খেলাধুলোর প্রতি আকর্ষণ তাঁর দীর্ঘদিনের। তিন বছর তিনি কেন্দ্রের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন। 'সুপ্রিম শাপমোচনে'র এবার কি রাজনীতি ছেড়ে আবার ক্রিকেট প্রশাসনে ফিরবেন অনুরাগ? সেরকম সম্ভাবনাই প্রবল।
