বরাবরই তাঁর পরিচয় 'ভারতবিদ্বেষী' হিসাবে। এবার টি-২০ বিশ্বকাপ বিতর্কেও ভারতের তুমুল বিরোধিতা করলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক নাসের হুসেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে আইসিসি। বিশ্বকাপের একমাস আগে ভারত যদি নিরাপত্তা ইস্যুতে খেলতে না চাইত, তাহলে কি ভারতকেও বিশ্বকাপ থেকে বের করে দিতে পারত আইসিসি? প্রশ্ন নাসেরের। তিনি আরও বলেছেন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ যা করেছে সেটাই ঠিক।
ভারতে নিরাপত্তা নেই, এমনটাই দাবি করে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসতে চায়নি বাংলাদেশ। সেকারণে লিটন দাসদের বাদ দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে। পরিবর্তে স্কটল্যান্ড খেলছে বিশ্বকাপে। গোটা ইস্যুতে সুর চড়িয়েছে পাকিস্তান। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি আইসিসি সুবিচার করেনি। তাই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাক দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে না তারা।
গোটা বিতর্ক নিয়ে একটি পডকাস্টে মুখ খুলেছেন নাসের হুসেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, "টুর্নামেন্ট শুরুর একমাস আগে ভারত যদি বলত আমাদের সরকার নির্দিষ্ট একটা দেশে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দিচ্ছে না, তাহলেও কি আইসিসি এই পদক্ষেপ করত? আইসিসি কি বলত যে ভারতকে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়া হবে না?" নাসের আরও বলেন, "বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত প্রত্যেকটা দলকেই সমান চোখে দেখা উচিত। হ্যাঁ ভারতের সমর্থকরা দাবি করতে পারেন যে তাঁদের বোর্ডের হাতে অনেক বেশি অর্থ রয়েছে। কিন্তু অর্থ বেশি থাকলে দায়িত্বও বেড়ে যায়।"
"টুর্নামেন্ট শুরুর একমাস আগে ভারত যদি বলত আমাদের সরকার নির্দিষ্ট একটা দেশে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দিচ্ছে না, তাহলেও কি আইসিসি এই পদক্ষেপ করত? আইসিসি কি বলত যে ভারতকে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়া হবে না?"
প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়কের যুক্তি, "সাম্প্রতিক অতীতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে ভারত। তাই বাংলাদেশ বোর্ড যেভাবে ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই পদক্ষেপটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। পাকিস্তানও যেভাবে বাংলাদেশের পাশে থেকে সরব হয়েছে সেটাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একটা সময়ের পর কাউকে তো বলতেই হবে, রাজনীতি বন্ধ হোক। ক্রিকেট ফিরে আসুক।" নাসের এমন মন্তব্য করলেও আইসিসি বৈঠকে তাঁর দেশের বোর্ড বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের পাশে থাকেনি।
