টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) আগে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন। অনেকেই মনে করছিলেন, তাঁর কাঁধে ভর করেই বিশ্বকাপে রানের পাহাড় গড়বে ভারত। কিন্তু গ্রুপ পর্বে চূড়ান্ত ব্যর্থ সেই অভিষেক শর্মা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন তিনটি ম্যাচ। কিন্তু একটাও ম্যাচে খাতা খুলতে পারেননি। প্রশ্ন উঠছে, অভিষেক আদৌ সুস্থ হয়ে উঠেছেন তো? তাঁকে মাঠে নামানোটা কি আদৌ উচিত হচ্ছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে ভারত। সেই ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান অভিষেক। তারপরেই পেটের সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওজন কমে যায়। এমনকি একদিনের জন্য হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয় তাঁকে। পেটের সমস্যার কারণে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক খেলতে পারেননি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়েছেন তো?
যাবতীয় জল্পনার মধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলানো হয় অভিষেককে। সেখানেও কোনও রান না করে সলমন আলি আঘার বলে আউট হয়ে যান। বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচ। সেখানেও রান করতে পারলেন না অভিষেক। তিনটি ম্যাচের প্রত্যেকটিতে অভিষেকের আউট হওয়ার ধরণ একই। বড় শট মারতে গিয়ে হয় ক্যাচ দিচ্ছেন, নয়তো বল ফস্কাচ্ছেন।
বুধবার ম্যাচে আগে অভিষেককে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর। তাঁর বার্তা ছিল, ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই আক্রমণাত্মক শট খেলার দরকার নেই। প্রথমে সিঙ্গেল নিন তরুণ ওপেনার। তাতে পা সচল হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তারপর থেকে শুরু হোক আগ্রাসী শট খেলা। কিন্তু সেই উপদেশ অভিষেকের কান পর্যন্ত পৌঁছয়নি।
তিনটি ম্যাচের প্রত্যেকটিতে অভিষেকের আউট হওয়ার ধরণ একই। বড় শট মারতে গিয়ে হয় ক্যাচ দিচ্ছেন, নয়তো বল ফস্কাচ্ছেন।
ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকে আবার সন্দেহ প্রকাশ করছেন, অসুস্থতা, ওজন কমে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সবমিলিয়ে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছেন। সেটা সামলে ম্যাচ খেলার মতো অবস্থা হয়েছে অভিষেকের? তাঁকে সব ম্যাচ খেলিয়ে হিতে বিপরীত হচ্ছে না তো? বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ভারতের ম্যাচ শেষ। আগামী রবিবার থেকে শুরু হবে সুপার এইট পর্ব। সেখানে ভারতের সামনে আরও বেশি কঠিন প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ। সেখানে অভিষেকের লাগাতার ব্যর্থতা সামাল দিতে পারবে টিম ইন্ডিয়া?
