বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। তবে তাতে বিশেষ 'মনখারাপ' হওয়ার কথা নয় পদ্মাপারের ক্রিকেটভক্তদের। শাস্তি নয়, বরং আইসিসি'র থেকে একাধিক 'পুরস্কার'ও পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে তাতে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল যখন বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্তে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করেছেন। তখন সেদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলছেন, ক্রিকেটাররাই বিশ্বকাপে যেতে রাজি হননি।
পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট তোলার আগে লাহোরে পাক বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয় আইসিসি'র। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বোর্ডের প্রধান আমিনুল। পরে আইসিসি জানায়, বিশ্বকাপে না খেলায় বাংলাদেশের কোনও শাস্তি হবে না। এর সঙ্গে ২০২৮ থেকে ২০৩১-র মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পাবে। পাকিস্তানও স্বীকার করেছে, বয়কট তুলতে বাংলাদেশের অনুরোধের কথা মাথায় রেখেছে তারা। সব মিলিয়ে যা আমিনুলের 'ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি'র সাফল্য বলেই মনে করছে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য, "সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা আত্মত্যাগ করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে। আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।" অথচ এই আসিফই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে আগে বলেছিলেন, "ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা— এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত।"
কিন্তু বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো'কে আমিনুল বলেন, "এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এটা আমার সময়ে হয়েছে এবং আমার সরকারকে সমর্থন করতে হত। সিদ্ধান্তটা ক্রিকেটের ছিল না, এটা আরও ওপর থেকে এসেছে। সরকারের সিদ্ধান্তটা আর কোনও ভাবে বিবেচনার সুযোগ ছিল না। এখানে পুরো ইকোসিস্টেম যুক্ত ছিল। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা—সব।" তাহলে দায় কার? সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
