দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৮৭/৬ (রিকেলটন ৬১, ওমারজাই ৪১/৩)
আফগানিস্তান: ১৮৭/১০ (গুরবাজ ৮৪, এনগিডি ২৬/৩)
প্রথম সুপার ওভার
আফগানিস্তান: ১৭/০
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭/১
দ্বিতীয় সুপার ওভার
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৩/০
আফগানিস্তান: ১৯/২
সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী
অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব! তবে আফগানিস্তানের জন্য 'অপূর্ণ'। ক্রিকেট চরম অনিশ্চয়তার খেলা! একই সঙ্গে ক্রিকেট যে কতটা উত্তেজক হয়ে উঠতে পারে, তা ফের প্রমাণিত হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। জোড়া সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারল আফগানিস্তান। বিশ্বকাপ অভিযানে বড়সড় ধাক্কাও খেল। ম্যাচের ফলাফলের ঊর্ধ্বে নাটকীয় উত্থানপতনের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট দুনিয়া। চাপের মুখে প্রোটিয়ারা ম্যাচ বের করল ঠিকই। কিন্তু রহমানুল্লা গুরবাজের জন্য যে কোনও ক্রিকেটভক্তের খারাপ লাগতে বাধ্য!
নাটকের পর নাটক। আফগানদের জন্য 'ডু অর ডাই' ম্যাচ। হারলেই বিশ্বকাপ অভিযান প্রশ্নের মুখে পড়বে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে পরের রাউন্ড কার্যত নিশ্চিত। সেখানে চাপের মুখে ভুল করল দুই দলই। একসময় রহমানুল্লা গুরবাজের ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ম্যাচ জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আফগানিস্তান। আবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরাল তাঁদের বিখ্যাত ফিল্ডিং। কিন্তু শেষ ওভারে রইল বিরাট নাটক। নো বল আর রান আউটের নাটকে ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। সেখানেও নাটক। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ ফের সুপার ওভারে পাঠালেন দক্ষিণ আফ্রিকার ত্রিস্তান স্টাবস। দ্বিতীয় দফার সুপার ওভারে ২৪ রান তাড়া করতে নেমে রহমানুল্লাহ গুরবাজ টানা তিনটি ছক্কা মেরেও আফগানদের জেতাতে পারেননি।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। শুরুটা ভালোই হয়েছিল আফগানিস্তানের। ফজলহক ফারুকির বলে ফেরেন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেন কুইন্টন ডি'কক ও রায়ান রিকেলটন। শুরুর ধাক্কায় রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নেননি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। বরং দুই প্রোটিয়া ব্যাটারের দাপটে চাপে পড়ে যান আফগান বোলাররা। নূর আহমেদের এক ওভারে ২৩ রান নেন রিকেলটন। মাত্র ২৮ বলে ৬১ রান করে আউট হন রিকেলটন। অন্যদিকে ডি'কক ৪১ বলে করেন ৫৯ রান। মাঝে রানের গতি কিছুটা কমলেও জানসেন-মিলার জুটিতে শেষ দু'ওভারে ওঠে ২৮ রান। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ১৮৭ রানে।
জবাবে একা কুম্ভ হয়ে লড়ে যান গুরবাজ। একদিকে নিয়মিত উইকেট পতন, অন্যদিকে গুরবাজের ব্যাটে রানের ফুলঝুরি। গুলবাদিন নাইব থেকে মহম্মদ নবি, কেউই রান পাননি। বরং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়ে দলের বিপদ আরও বাড়ান। লুঙ্গি এনগিডির স্লোয়ারের দিশাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না আফগান ব্যাটাররা। সেখানে ৪টা চার ও ৭টা ছক্কায় ৪২ বলে ৮৪ রান করেন গুরবাজ। মনে হচ্ছিল, একাই ম্যাচ বের করে নিয়ে যাবেন প্রাক্তন নাইট। কিন্তু প্রোটিয়াদের ম্যাচে ফেরাল তাঁদের বিখ্যাত ফিল্ডিং।
কেশব মহারাজের বলটা গুরবাজ মারতে গিয়েছিলেন কভারের উপর দিয়ে। কিন্তু ব্যাটের কোনায় লেগে চলে গেল শর্ট থার্ড ম্যানে। সেখানে অপেক্ষা করেছিলেন জর্জ লিন্ডে। বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে বল তালুবন্দি করেন তিনি। তবু গুরবাজের লড়াইটা জারি রেখেছিলেন আজমাতুল্লা ওমরজাই ও রশিদ খান। কিন্তু ওমারজাইকেও ফিরতে বাধ্য করল প্রোটিয়াদের অবিশ্বাস্য ফিল্ডিং। ত্রিস্তান স্টাবস বাউন্ডারি লাইনে বল ধরে মাঠের বাইরে চলে গিয়েও অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরেন। তার একটু পরে আউট রশিদ খানও।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। কাগিসো রাবাডার প্রথম বল নো, দ্বিতীয় বল ওয়াইড। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকালেন নূর আহমেদ। চতুর্থ বলে আবার নো। সেটাতেও দু'রান। অর্থাৎ শেষ তিন বলে ম্যাচ জিততে দরকার ২ রান। হাতে এক উইকেট। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে রান আউট হয়ে গেলেন ফজলহক ফারুকি। একরান নিলেও পরের দু'বলে জেতার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু সেই ভুল করে ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে।
সুপার ওভারেও দাপট বজায় রাখলেন ওমারজাই। ৫ বলে ১৬ রান তুললেন তিনি। লুঙ্গি এনগিডি গোটা ম্যাচে ভালো বল করলেও প্রথম সুপার ওভারে দেদার রান দিলেন। তাঁর ওভারে স্কোরবোর্ড দাঁড়াল ৪, ৬, ১, ১, ৪, ১। প্রোটিয়াদের জন্য লক্ষ্য ১৮। আফগানদের হয়ে দায়িত্ব পড়েছিল ফজলহক ফারুকির কাঁধে। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের কাছে ছক্কা খেলেও ঠিক কামব্যাক করলেন। শেষ পর্যন্ত এক বলে বাকি ছিল সাত রান। কিন্তু ফারুকির লো ফুলটসকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন স্টাবস। মহম্মদ নবি বাউন্ডারিতে লাফিয়েও বাঁচাতে পারলেন না। ম্যাচ ফের সুপার ওভারে।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে ঝড় নিয়ে হাজির হলেন স্তাবস। আজমাতুল্লাকে কার্যত বলে বলে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন। তিনটে বিরাট ছক্কা হাঁকালেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ২৩ রানের কোনও উত্তর ছিল না আফগানদের কাছে। মিরাকলের আশায় নেমে শুরুতেই আউট হন মহম্মদ নবি। কিন্তু দাঁড়ান! নাটক যে তখনও বাকি। চার বলে দরকার ২৪। গুরবাজ মারলেন তিনটে বিরাট ছক্কা। চাপের মুখে ওয়াইডও করলেন প্রোটিয়া বোলার কেশব মহারাজ। এক বলে বাকি ৫। কিন্তু না। এবার আর অসাধ্যসাধন হল না। এক ম্যাচে টানা তিনবার মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিয়ে গেল প্রোটিয়ারা। সেই সঙ্গে আফগানদের বিশ্বকাপ অভিযান শুধু শেষের মুখে নয়, এই 'হতাশা' থেকে বেরিয়ে আসার চাপও নিতে হবে।
