বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে পাকিস্তান। এই ছোট্ট সুসংবাদ ক্রিকেটপ্রেমীদের দেওয়ার জন্য বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বিশ্বক্রিকেটের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের। কখনও নরমে, কখনও গরমে পাক বোর্ডের কর্তাদের বুঝিয়েছে আইসিসি। করতে হয়েছে নাটকও। আবার দিনের শেষে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আপসও করতে হয়েছে আইসিসিকে। সবটাই অবশ্য ক্রিকেটের স্বার্থে। কোনও দেশের চাপে নয়।
রবিবার আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ বোর্ডের প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পাকিস্তান বোর্ডের প্রধান নকভি উপস্থিত ছিলেন। এই মিটিংয়ের বিষয়ে আবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলেন নকভি। তারপরই বয়কট শেষ করে ম্যাচ খেলার কথা জানায় পাক সরকার। এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তাতে আইসিসি ওই ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানকে রাজি করানোর জন্য পাক বোর্ডের দেওয়া বাংলাদেশ সম্পর্কিত কিছু শর্ত মেনেছে। কী কী শর্ত? এক, বিশ্বকাপ না খেলার জন্য কোনও শাস্তি পেতে হবে না বাংলাদেশকে। দুই, ২০৩১ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসাবে বহাল থাকবে বাংলাদেশ। তিন, ২০৩১-এর আগে শর্তসাপেক্ষে আরও একটি আইসিসি ইভেন্ট পাবে বাংলাদেশ। এমনকী, এসবের পরও যদি আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজল্যুশন কমিটিতে অভিযোগ জানাতে চায় বাংলাদেশ সে রাস্তা খোলা আছে।
একটা সময় পর্যন্ত মনে করা হচ্ছিল বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেলায় আইসিসির কোপের মুখে পড়তে পারে। নির্বাসন, আর্থিক জরিমানার মতো শাস্তি হতে পারে বাংলাদেশ বোর্ডের। আইসিসির কাছে সে রাস্তাও খোলা ছিল। কিন্তু সে পথে না হেঁটে আইসিসি বাংলাদেশকে তেমন কোনও শাস্তি না দিয়ে উলটে 'পুরস্কার' দিল। কিন্তু কেন? স্রেফ পাকিস্তানের চাপেই কি এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি বোর্ড? ব্যাপারটা হয়তো তেমন নয়। আসলে আইসিসিকে সার্বিকভাবে ইগো, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গোটা ক্রিকেটবিশ্বের কথা ভাবতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা কোনওভাবেই চাইছিল না, এই সামান্য ইগো ও রাজনীতির লড়াইয়ে সার্বিকভাবে ক্রিকেটের ক্ষতি হোক।
আসলে শুরু থেকেই আইসিসি বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক। যে কারণে তাঁদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে 'দুঃখজনক' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন আইসিসির শীর্ষ কর্তা সংযোগ গুপ্ত। বস্তুত আইসিসি কর্তাদের বক্তব্য স্পষ্ট ছিল, স্রেফ একটা ইস্যুতে এই বিবাদে এমন পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, যাতে আইসিসির কোনও পূর্ণ সদস্য দেশের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। বিশ্বকাপে খেলতে না আসায় এমনিই যথেষ্ট ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তার উপর শাস্তির খাড়া চাপালে আর্থিকভাবে বেসামাল হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তাতে আখেরে ক্ষতি বিশ্ব ক্রিকেটের। এমনিতেই ক্রিকেটের বাজার সীমাবদ্ধ সামান্য কয়েকটি দেশে। তার মধ্যে যদি বাংলাদেশ ক্রিকেটীয়ভাবে পঙ্গু হয়ে যায়, তাহলে আদতে ক্ষতি ক্রিকেটেরই। ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশে ক্রিকেটের অন্তত ২০ কোটি সমর্থক রয়েছেন। সেই ২০ কোটি সমর্থক কিন্তু ক্রিকেটের শক্তি। তাই সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে শাস্তির মুখে না ফেলে সহযোগিতার হাত বাড়ানোটাই শ্রেয় বলে মনে করেছে আইসিসি। সেকারণেই শাস্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে দাঁড়াচ্ছে আইসিসি। তাতে অবশ্য পাকিস্তানের বিশেষ ভূমিকা নেই।
