চেন্নাই এয়ারপোর্টে ঠিক দেড়টার সময় ভারতীয় টিম বাসটা এসে থামল। একে একে নামছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া, জশপ্রীত বুমরাহরা। ক্রিকেটারদের চোখে মুখে স্বস্তির ছায়া। আহমেদাবাদে হারের পর পর যে চাপটা ছিল, সেটা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ভারতের কাছে কার্যত 'কোয়ার্টার ফাইনাল'। জিতলে রান রেটের কোনও অঙ্ক থাকছে না। সোজা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চলে যাবে টিম।
জিম্বাবোয়ে ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল ব্যাটারদের সবার ফর্মে ফিরে আসা। সঞ্জু স্যামসন ওপেনে নেমে ভালো একটা ক্যামিও খেলেন। তারপর প্রত্যেকে রান করেছেন। লোয়ার অর্ডারে গিয়ে তিলকও বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন। সব মিলিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে কলকাতায় পা রাখল ভারতীয় দল।
ফুরফুরে মেজাজের মধ্যে একটাই শোকের খবর। শুক্রবার পিতৃবিয়োগ হয়েছে রিঙ্কু সিংয়ের। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে রিঙ্কু বাবাকে দেখতেও যান। খবর পাওয়া মাত্র চেন্নাই থেকে রওনা দেন তিনি। তবে দেশাত্মবোধের অবিশ্বাস্য পরিচয় দিয়ে আজ, শনিবার দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়া এদিন যে খবর জানিয়েছেন। অতীতে শচীন তেণ্ডুলকর ও বিরাট কোহলিও পিতার মৃত্যুর পর দলের সঙ্গে থেকে দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করাচ্ছেন রিঙ্কু।
তবে ম্যাচে নামার আগে গৌতম গম্ভীরদের আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে টিমের ব্যাটারদের ফর্মে ফেরা। খবর নিয়ে জানা গেল, চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ে ম্যাচ শেষে ছোটোখাটো একটা টিম মিটিং হয়েছে। সেখানে ক্রিকেটারদের পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। বিপক্ষকে সবসময় চাপে রাখতে হবে। তাতে যদি দু'-তিনটে উইকেট চলেও যায়, তাতেও নিজেদের ব্যাটিংয়ের টেমপ্লেট বদলানো যাবে না।
তিলক বর্মা সেটা আগের দিনও বলছিলেন। তাঁর কথায়, "আমাদের মনে হয়েছিল, এর আগের ম্যাচগুলোতে আমি একটু দেখেশুনে খেলছিলাম। মানে একটা-দু'টো উইকেট চলে গেলে দু'টো-তিনটে বল একটু দেখে নিচ্ছিলাম। কিন্তু পরে সবাই ঠিক করি, ওসব নিয়ে ভাবলে চলবে না। যদি প্রথম বল হিট করার মতো থাকে, তাহলে অবশ্যই হিট করব।"
কোচ গম্ভীর নিজেও খুব ভালো করে জানেন ইডেনের পিচ কেমন। দীর্ঘদিন কেকেআরে খেলেছেন। পরে মেন্টরও ছিলেন। তিনি জানেন, ইডেনে রানের পিচ হবে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারত যদি তুলনামূলক স্লো উইকেটে খেলতে চায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের প্রধান অস্ত্র হল পাওয়ার হিটিং। বিশ্বকাপে সেটাই করে আসেছেন হেটমেয়াররা। তাছাড়া জিম্বাবোয়ে ম্যাচে জিতলেও ভারতের বোলিং নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। আগের দিন বুমরাহ উইকেট পাননি। বরুণ চক্রবর্তীকে শেষ দু'টো ম্যাচে সাধারণ দেখিয়েছে। ভারতীয় স্পিন অ্যাটাকে তিনিই সবচেয়ে বড় ভরসা। শোনা যাচ্ছে, বরুণকে নিয়ে নাকি আলাদা করে ক্লাসও হয়েছে।
