ইডেন ‘কোয়ার্টারে’ জিতবে কে? ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভারত সেমিফাইনাল যেতে পারবে তো? দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে গত ম্যাচে যতই চূর্ণবিচূর্ণ হোক না কেন, ‘পাওয়ার হিটার’ কম নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজে। শিমরন হেটমায়ার, শেফানে রাদারফোর্ড, রোমারিও শেফার্ড, রভম্যান পাওয়েল, জেসন হোল্ডার–রীতিমতো ভয় ধরানো ব্যাটিং লাইন আপ ক্যারিবিয়ানদের! কিন্তু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভরসা রাখছেন জশপ্রীত বুমরাহর উপর।
‘‘খেলায় কী হবে, বলা মুশকিল। ক্লোজ ম্যাচ দেখছি। পঞ্চাশ-পঞ্চাশ,’’ বলতে থাকেন সৌরভ। ‘‘ওদের ব্যাটাররা বেশ ভালো। দু’একজনের লেগে গেলেই মুশকিল।’’ দ্রুত জিজ্ঞাসা করা হল, ভারতের বোলিং কি একটা দুশ্চিন্তার জায়গা? বিশেষ করে বরুণ চক্রবর্তী? যিনি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবোয়ে ম্যাচ ধরে সম্মিলিত প্রায় ৮০ রান দিয়েছেন! ‘‘মনে হচ্ছে, বরুণকে পিক করে নিচ্ছে ব্যাটাররা। অফস্পিনার হিসেবে খেলছে ওকে,’’ বললেন সৌরভ। দক্ষিণ আফ্রিকাই কি তা হলে বরুণ রহস্যভেদের রাস্তা দেখিয়ে দিল? এবার উত্তর আসে, ‘‘দারুণ সামলেছে কিন্তু বরুণকে ওরা। অবশ্য সাউথ আফ্রিকা ব্যাটাররাও তুখোড়। ডিওয়াল্ড ব্রেভিস কী প্লেয়ার! দেখুন, আমি বিশ্বাস করি টি-টোয়েন্টিতে ভারতের শ্রেষ্ঠ বাজি বুমরাহই। বাকিরাও ভালো। অর্শদীপও যথেষ্ট ভালো বোলিং করছে। কিন্তু বুমরাহ, বুমরাহই।’’
ভারতের বোলিং কি একটা দুশ্চিন্তার জায়গা? বিশেষ করে বরুণ চক্রবর্তী? যিনি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবোয়ে ম্যাচ ধরে সম্মিলিত প্রায় ৮০ রান দিয়েছেন! ‘‘মনে হচ্ছে, বরুণকে পিক করে নিচ্ছে ব্যাটাররা। অফস্পিনার হিসেবে খেলছে ওকে,’’ বললেন সৌরভ।
বুঝতে অসুবিধে হয় না, রোববারের ইডেন-যুদ্ধে সৌরভের বাজি কে? তথ্যের খাতিরে বলে রাখা যাক, এ দিন ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দু’টো টিমই শহরে ঢুকে পড়ল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সময় অনুযায়ী চলে এলেও, ভারতীয় ক্রিকেটাররা শহরে পৌঁছলেন নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে। আসলে দুপুর বেলায় শহরে ভূমিকম্প হওয়ার পরপর কিছুক্ষণের জন্য কলকাতা রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চেন্নাই থেকে প্রায় মিনিট চল্লিশ পর ওড়ে সূর্যকুমার যাদবদের ফ্লাইট। শুক্রবার শহরে নেমে বিকেলের দিকে কালীঘাট মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল জাতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরের। কিন্তু সেটা আর তিনি যাননি। যাবেন শনিবার সকালে। তার পর বিকেলে মাঠ। সন্ধে থেকে ভারতের ঐচ্ছিক প্র্যাকটিস সেশন রাখা হয়েছে।
ইডেন পিচ–সেটা আর একটা চর্চায় বিষয়। চলতি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সবচেয়ে মাথাব্যথার বস্তু যদি কিছু হয়ে থাকে, তা হলে সেটা বাইশ গজ। তবে সুখবর হল, চিপকের মতো ইডেন পিচও ব্যাটিং-বন্ধু হবে। ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় বললেন যে, উইকেটে ভালো বাউন্স থাকবে। ‘ক্যারি’ থাকবে। বল ভালো আসবে ব্যাটে। দু’শো প্লাস এ পিচে ধরে রাখা যায়। তবে তার পরেও একটা চিন্তা থাকছে। সন্ধে সাতটা-সাড়ে সাতটা থেকে প্রবল শিশির পড়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। এবং তা থামাথামির কোনও লক্ষ্মণ আপাতত পাওয়া যাচ্ছে না। এবং মাঠ ছাড়ার আগে ইডেন কিউরেটর কিন্তু গম্ভীরের ভারতীয় দলের উদ্দেশ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে গেলেন–টস জিতলে রান তাড়া করা ভালো!
