আরও একটা ম্যাচ। আরও একটা ব্যর্থতা। রবিবাসরীয় আহমেদাবাদে শূন্যের গেরো হয়তো কাটালেন, কিন্তু ফর্ম ফিরে পেলেন না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ১৫ রান অভিষেক শর্মাকে (Abhishek Sharma) অক্সিজেন জোগাতে পারল না। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর শোনা যাচ্ছে 'শর্মাজি কা বেটা'কে বসাতে নাকি আলোচনায় বসতে চলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে বাঁহাতি ব্যাটারের জন্য 'পথ্য' জোগাড় করে ফেলেছেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। যদিও 'আর কিছু করার নেই' বলে চিন্তা দূর হচ্ছে না তাঁর।
শেষ নয় ইনিংসে পাঁচবার শূন্যে ফিরেছেন অভিষেক। ৮৪, ০, ৬৮*, ০, ৩০, ০, ০, ০, ১৫। এই হল শেষ ন'টি টি-টোয়েন্টিতে তাঁর স্কোর। এই মুহূর্তে তাঁর আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই তলানিতে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ হেন পরিস্থিতির নাগপাশে পড়ে কারও খেয়ালই নেই যে, অভিশপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠে (২০২৩) আরও এক বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘চ্যাপ্টার টু’য়ে টিম ইন্ডিয়া হেরে যাওয়ার পর ২৫ বছরের ওপেনারকে নিয়ে চর্চা জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গম্ভীরের সহকারীর মতে, হাতে আরও বেশি সময় থাকলে কিছু করা যেত।
কোটাকের কথায়, "অভিষেক আগেও এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে আইপিএলে। তবে দু'টো দিনের মধ্যে তো বেশি কিছু বদল সম্ভব নয়। ১৫টা দিন সময় থাকলে না হয় কিছু একটা করা যেত। এটা এমন একটা মুহূর্ত, যখন ওকে যত বেশি বলা হবে, ওর মনে তত সন্দেহ তৈরি হবে। আমি অন্তত এমনই মনে করি।" যদিও অভিষেককে পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না। ভারতীয় দলকে নিয়ে ‘বিশ্বকাপেই তিনশো পার’ জাতীয় যে আগাম হাঁকডাক চালাছিল সম্প্রচারকারী সংস্থা, তার কিস্যু এখনও ঘটেনি। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রান নামিবিয়ার বিরুদ্ধে। ২০৯। যা আহামরি রানই নয়। তার উপর দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৮ তাড়া করতে গিয়েছে একেবারে জুজু দেখেছে টিম ইন্ডিয়া। ১১১ রানে গুটিয়ে গিয়েছে। ৭৬ রানে হার মেনেছে ভারত।
যদিও সীতাংশু অবশ্য অভিষেককে নিয়েই কথা বলেছেন। "ওকে বলতাম, একটু সময় নিয়ে বল দেখে খেলতে। তবে এটা কেবল অভিষেক নয়, কোনও ব্যাটার যদি অফ ফর্মে থাকে, তাকে কম ঝুঁকি নেওয়া উচিত। তবে এখন তো আর অত সময় নেই।" অর্থাৎ, ওষুধ জানলেও দু'দিনে রোগ সারানো যে অসম্ভব, সে কথা বলে দিলেন কোটাক। তবে প্রশ্ন উঠছে, লাগাতার ব্যর্থ অভিষেকের বোঝা আর কতদিন বইবে ভারত?
