ম্যাচ ৭, ইনিংস ৭, রান ৬২, ব্যাটিং গড় ৮.৮৫, স্ট্রাইক রেট ১০৮। বিলেতের (ENG) প্রথিতযশা ব্যাটার তিনি। তাঁর নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মোটেও ভালো যাচ্ছে না জস বাটলারের। উপরে যা লিখলাম, সবই এবারের বিশ্বকাপে তাঁর পরিসংখ্যান। ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার দলের হয়ে ওপেন করছেন বিশ্বকাপে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বলার মতো কোনও রান করতে পারেননি বাটলার। যা ভারতের বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার সেমিফাইনাল যুদ্ধে নামার আগে হ্যারি ব্রুকের টিমের দুশ্চিন্তা বাড়াবে ছাড়া কমাবে না।
কাকতালীয় মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওয়াংখেড়ে সেমিফাইনালে নামার আগে সূর্যকুমার যাদবের ভারতের (IND) দুশ্চিন্তাও আবার ওই একজনই– জস বাটলার!
মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের একটু পরে সদলবলে ট্রেনিংয়ে এল ভারতীয় টিম। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রথমে ছড়িয়ে গিয়েছিল যে, চন্দ্রগ্রহণের কারণে নাকি সূর্যরা দেরি করছেন ওয়াংখেড়েতে নামতে! গ্রহণ না ছাড়লে নাকি তাঁরা মাঠে নামবে না! সংবাদসংস্থা থেকে শুরু করে বেশ কয়েক নির্ভরযোগ্য মিডিয়া হাউসও তা লিখে দেয়। কিন্তু পরে জানা গেল, সত্যিটা মোটেও তা নয়। আসলে ওয়াংখেড়েতে রাত ন’টার পর শিশির পড়া শুরু হচ্ছে। অতএব, শিশিরের প্রভাবে বল কেমন আচরণ করবে, বোলাররা কী করে তার সঙ্গে মানিয়ে নেবেন, সমস্ত কিছু দেখে নিতে ভারতীয় টিম পরের দিকে ট্রেনিং সেশন রেখেছিল এ দিন। কারণ, খেলার আগের দিন ভারতের ট্রেনিং দুপুরে। ওয়াংখেড়ে পিচ নিয়ে সে রকম দুর্ভাবনার জায়গা এবার সম্ভবত নেই। এটা ঘটনা যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটা ওয়াংখেড়েতেই খেলেছিল ভারত। আর সেই ম্যাচে টিমকে প্রবল ভুগিয়েওছিল ওয়াংখেড়ে বাইশ গজ। সূর্যকুমার যাদব সেদিন পরিত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত না হলে কী হত, বলা যায় না। তবে সেমিফাইনালের পিচ শোনা গেল, আলাদা হবে। বাইশ গজে বাউন্স থাকবে। গতি থাকবে। বল ভালো আসবে ব্যাটে। কিছুটা ঘাসও রাখা হয়েছে। তাই পিচ-টিচ নয়। ভাবনা বরং শিশির নিয়ে। আসলে সেমিফাইনালে যদি টস হেরে যায় ভারত, তা হলে লিখে দেওয়া যায়, সূর্যকুমারদের আগে ব্যাটিং করতে পাঠাবে ইংল্যান্ড। পরে বোলিং করতে হলে যাতে ঝঞ্ঝাটে না পড়তে হয়, সে কারণে এ হেন ট্রেনিং ‘শিডিউল’ পরিবর্তন। আগাম পরিকল্পনা করে রাখার উদ্দেশে।
তা, বাটলার নিয়েও একটা পরিকল্পনা নাকি ছকে রেখেছে ভারত। টিমের অন্দরমহলের কেউ কেউ নাকি মনে করছেন, ইংরেজ কিপার-ব্যাটারের ‘উইলো’ যে এতদিন ধরে ‘নিশ্চুপ’ রয়েছে, সেটাই সবচেয়ে ভয়ের। কে বলতে পারে, ভারতের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেই তিনি নিজের পরিচিত সংহার-মূর্তি ধরবেন না? ওয়াকিবহাল মহলের কেউ কেউ বলছিলেন যে, বাটলার বড় ব্যাটার। তাঁর জাতই আলাদা। যতক্ষণ রান পাচ্ছেন না, ঠিক আছে। কিন্তু একবার তঁার ব্যাট চলতে শুরু করলে আর রক্ষা থাকবে না!
শোনা গেল, বাটলারের একটা সম্ভাব্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ ভেবে নাকি বার করেছে ভারত। টিমের বাঁ-হাতি পেসার অর্শদীপ সিংকে ব্যবহার করে। অনেকে মনে করছেন, অর্শদীপের যে ডেলিভারিটা ডান হাতি ব্যাটারদের ক্ষেত্রে বাইরে যায়, তা বাটলারকে বিপদে ফেলতে পারে। বাঁ-হাতি পেসারকে খেলতে হলে ডান হাতি ব্যাটাররা এমনিই কিছুটা ‘অ্যাঙ্গেলজনিত’ সমস্যায় পড়েন। তাই অর্শদীপকে যদি সেমিফাইনালে বাটলার-বধের দায়-দায়িত্ব দেওয়া হয়, আশ্চর্যের কিছু হবে না।
দেখতে গেলে, বিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তুলনায় ইংল্যান্ড অধিকতর কঠিন হবে। ব্রুকদের টিমের ব্যাটিং তো রীতিমতো রত্নখচিত। অধিনায়ক স্বয়ং দারুণ ছন্দে রয়েছেন। বোলারদের মধ্যে ভয়াল গতির জোফ্রা আর্চারকে আবার পুরনো দিনের মতো ভয়ংকর দেখাচ্ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কোনও কোনও ক্রিকেট-প্রাজ্ঞ তাই মনে করেন যে, প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ড অনেক বেশি ‘টাফ’ হবে।
বাটলারের অফ ফর্ম নিয়েও জিজ্ঞাসা করা হয় কুরানকে। ইংরেজ অলরাউন্ডার ফুৎকারে তা উড়িয়ে দেন। বলে দেন, ‘‘বাটলার নিয়ে কথা বলার মানেই হয় না। যে ফর্মেই থাক না কেন, ওকে যে কোনও টিম চাইবে। কারণ, জস কোয়ালিটি প্লেয়ার। আমি নিশ্চিত দ্রুতই ও ফর্মে ফিরে আসবে।’’
ফিরুন, ফিরুন। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার না ফিরলেই চলবে!
