হাত ঘুরিয়ে পিজ্জা তৈরি করতেন। তাতেই চলত সংসার। কিন্তু সেই পিজ্জা বানাতে বানাতে এমন হাত ঘোরালেন যে দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ে ফেললেন। এককথায় এটাই ক্রিশান কালুগামেগের জীবনের গল্প। প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup) খেলতে নেমেছে ইটালি। প্রথমবার জয়ও পেয়েছে বিশ্বমঞ্চে। আর ইটালির সেই জয়ের অন্যতম কারিগর, পেশায় পিজ্জা প্রস্তুতকারক ক্রিশান। মাত্র ১৮ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
ক্রিশানের জন্ম শ্রীলঙ্কায়। অরবিন্দ ডি সিলভাকে আদর্শ মেনে ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে পরিবারের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ছেড়ে ইটালি পাড়ি দিতে হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সে। সেখানে গিয়ে ক্রিকেট ব্যাট-বলের পরিবর্তে ময়দা-চিজ নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন ক্রিশান। টাস্কানিতে তিনি পিজ্জা বানিয়ে উপার্জন করতেন। কিন্তু প্রবল সমস্যার মধ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে গিয়েছেন। এমনকী রবিবার কাজ করতে হবে বলে বহু চাকরি ছেড়েছেন স্রেফ ক্রিকেটের টানে।
মাঝে চোট পেয়ে পেসার হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। ফলে স্পিন বোলিং শুরু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ইটালির জাতীয় দলে উত্থান ক্রিশানের। তাঁর বোলিংয়ের রহস্য জানতে চাইলে মিষ্টি হেসে জানান, ময়দার তাল থেকে হাতের চাপ দিয়ে যেভাবে একটা গোল পিজ্জা তৈরি হয়, ঠিক সেভাবেই হাত ঘুরিয়ে লেগ স্পিন করাতে হয়। আর সেই ডেলিভারিটাই গিয়ে আছড়ে পড়ে স্টাম্পে। পিজ্জা বানানোর স্ট্র্যাটেজি নিয়েই বিশ্বকাপে নেমেছেন। বৃহস্পতিবার নেপাল ব্যাটিংকে মাটি ধরিয়েছেন ক্রিশান।
ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ জিতেছে ইটালি। সেই ম্যাচের সেরা ক্রিশানকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত গোটা ইটালি স্কোয়াড। কোচ জন ডেভিসন তো হাতের ভঙ্গি করে দেখিয়েছেন, কীভাবে পিজ্জা বানানোর মতো করেই বল করেন ক্রিশান। ইতিহাস গড়া নায়ক নিজে কিছু না বললেও ইটালির অধিনায়ক হ্যারি মানেনতি বলেন, "আমাদের দলে থাকা ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনকেই অন্য কোনও কাজ করে সংসার চালাতে হয়।" অনেক সময়েই ক্রিকেটের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হয় না ইটালিতে। তবে সেসব বাধা পেরিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে উজ্জ্বল আবির্ভাব হল আজ্জুরিদের।
