সর্বপ্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এসে প্রথম স্মরণীয় জয় তুলে নেওয়ার পর ফুটবলের দেশ ইটালি কী করল? তাদের ক্রিকেটাররা কী করলেন-টরলেন? টিমটা মুম্বইয়ের ‘গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া’-য় ঘুরতে চলে গেল? অন্তহীন উৎসব শুরু করে দিল? রাতে ডিনার পার্টি-প্রভৃতি রাখা হল নাকি? উত্তর খুব সহজ–না! এ সমস্ত কিছুই হল না। বরং টিমটা ড্রেসিংরুমে নতুন করে শপথ নিল। ইংল্যান্ডকে হারানোর! ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর!
ইডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি ইতালির। স্কটল্যান্ডের কাছে রীতিমতো পর্যদুস্ত হয়ে ৭৩ রানে হেরেছে তারা। যার পর কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, বৃহস্পতিবার ওয়াংখেড়েতে তারা নেপালকে হারিয়ে দেবে! সেই নেপাল, যারা কি না দিন কয়েক আগে জস বাটলার-হ্যারি ব্রুকের ইংল্যান্ডের কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক নয়, দুই নয়, দশ উইকেটে ওয়াংখেড়েতে নেপাল-বধ করল ইটালি! টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পুরো কুড়ি ওভারও খেলতে পারেনি নেপাল। ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। যে রানটা তুলতে পুরো ১৩ ওভারও লাগেনি ইতালির। মাত্র ১২.৪ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে জয়ের রান তুলে দেয় তারা।
ইটালির যে স্মরণীয় জয়ের নেপথ্যে তিন জন। মসকা-ভাইরা। জাস্টিন মসকা এবং অ্যান্টনি মসকা। সিডনিজাত দুই ভাইয়ের প্রথম জন করলেন অপরাজিত ৬০। দ্বিতীয় জন, অপরাজিত ৬২। আর তৃতীয় জন বোলার। শ্রীলঙ্কাজাত কৃশান কালুগামাগে। চার ওভার বল করে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নিলেন যিনি। যাঁকে পিৎজা প্রস্তুতকারকের পেশা ছেড়ে বিশ্বকাপ খেলতে আসতে হয়েছে!
শোনা গেল, নেপালবধের পর ড্রেসিংরুমে দলের উদ্দেশে একটা নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছেন ইটালি অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন (ইডেনে কাঁধের হাড় সরে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার শুরুতেই বেরিয়ে যেতে হয় যাঁকে)। টিমকে তিনি বলে দেন যে, লোকে ভেবেছিল, ইটালি শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে এসেছে। গ্রুপের গোটা কতক ম্যাচ খেলবে। খেলে ফিরে যাবে। কিন্তু নেপালের বিরুদ্ধে টিম প্রমাণ করে দিয়েছে, বাস্তব তা নয়। এবার ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও ছেড়ে কথা বলবে না টিম। সহজে কেউ হারিয়ে চলে যেতে পারবে না। বরং এই টিম পরাশক্তিদের হারানোরও ক্ষমতা রাখে।"
মুম্বই থেকে ফোনে ইটালি টিম ম্যানেজার রাকবির হাসান হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ ছিল কামরান আর উমর আকমলের। ৯৬ রানের। আজ আমাদের মসকা-ব্রাদার্স সেটা টপকে গেল। থার্ডটাও আমাদের। ইডেনে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মানেন্তি ব্রাদার্সের ৭৩ রানের।’’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘ইডেনে আমাদের ক্যাপ্টেন চোট পেয়ে যাওয়ায় সে দিন দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু আজকের পর থেকে আমাদের যে হেলাফেলা করবে, ভুগতে তাকেই হবে।’’
