গত বছরের শেষের দিকে ইডেনের মাটিতেই ভারতকে টেস্ট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচে জয়ের পর টিম ইন্ডিয়াকে নিয়ে রীতিমতো অসম্মানজনক মন্তব্য করেন প্রোটিয়া কোচ শুকরি কনরাড। বিধাতার কী অদ্ভুত পরিহাস। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সেই ইডেনেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ শুকরির। যে দলটাকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছিল, সেই দলটা স্রেফ উড়ে গেল সেমিফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যে হারকে বর্ণনা করছেন, 'স্লটক্লাপ!' হিসাবে। আফ্রিকার লব্জে যা মোটামুটি সপাটে চড়ের সমার্থক।
এমনিতে 'চোকার্স' তকমাটা দক্ষিণ আফ্রিকার (SA) জন্য স্বীকৃত। একমাত্র বছর দেড়েক আগে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে সেই তকমাটা কিছুদিনের জন্য ছুঁড়ে ফেলতে পেরেছিলেন প্রোটিয়ারা। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) সেমিতে হারের পর সেই তকমা ফের জাঁকিয়ে বসল। যদিও প্রোটিয়া কোচ ঠিক চোকার্স হিসাবে নিজেদের দেখতে রাজি নন। তিনি বলছেন, "আমি এই হারটাকে ঠিক চোক হিসাবে দেখেছি না। বরং এটা তার চেয়ে অনেক বড়।"
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দল স্রেফ উড়ে গিয়েছে নিউজিল্যান্ডের (NZ) কাছে। হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৪৩ বল হাতে রেখে জিতেছে কিউয়িরা। সেখানে কনরাড অবলীলায় বলে গেলেন, "আমার ছেলেরা ভালোই খেলেছে। তবে প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত খেলেছে।" সত্যিই কি দুর্দান্ত খেলেছেন তাঁরা? দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এডেন মার্করাম সেটা মনে করছেন না। তিনি বলছেন, "মনে হচ্ছে কেউ একটা সপাটে থাপ্পড় কষিয়ে দিয়েছে। এই হার ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে আমরা আরও ভালো দল হিসাবে ফিরব।"
সপাটে চড়ই তো। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এত একপেশে ভাবা যায় না। ৪৩ বল বাকি থাকতে একটা দল পদানত। অথচ মাস কয়েক আগে ভারতকে টেস্টে হারিয়ে এই ইডেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ বলেছিলেন, “ভারতীয়দের পায়ের তলায় রাখতে চেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।” এই কথাটি বলতে গিয়ে তিনি ব্যবহার করেছেন ইংরাজির ‘গ্রোভেল’ শব্দটি। যা বর্ণবিদ্বেষের প্রতীক। দক্ষিণ আফ্রিকায় এক সময় এই শব্দটি ব্যবহার করা হত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের অপমান করার জন্য। আজ যেন সেইভাবেই তাঁদের পিষে দিল নিউজিল্যান্ড।
