উষ্মার বরফ গলে সম্ভাবনা বাড়ছে ভারত-পাক যুদ্ধের। বয়কট ভুলে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে হয়তো মাঠে নামবে পাকিস্তান। আইসিসি'র কাছে ৪৫০০ টাকা শাস্তির আশঙ্কা, ক্রিকেটদুনিয়ায় একঘরে হয়ে যাওয়ার মতো প্রবল চাপের কাছে শেষমেশ সুর নরম করেছে মহসিন নকভির পাকিস্তান। তবে সেক্ষেত্রে তিন শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পিসিবি।
১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছিল, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে তারা মাঠে নামবে না। তবে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত আইসিসি'কে লিখিতভাবে তারা কিছু জানায়নি। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি'কে কড়া চিঠিও লেখে পাকিস্তান। টিকিট বিক্রির কথাও তুলে ধরা হয়। তাছাড়াও আর্থিক, পর্যটন খাতে ক্ষতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয় গত শুক্রবার। কিন্তু পাকিস্তান সরকার অনুমতি দেয়নি বলে ভারতের বিরুদ্ধে খেলা যাবে না, এটাও পাক বোর্ডের অবস্থান ছিল। এতদিন এ ব্যাপারে কোনও রা না করলেও রবিবার এই ইস্যুতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লাহোরে পিসিবি'র দপ্তরে ম্যারাথন বৈঠকও হয়।
আইসিসি'র প্রতিনিধি হিসাবে লাহোরে গিয়েছিলেন ইমরান খোয়াজা এবং মোবাশির উসমানি। খোয়াজা হলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সহকারী। বৈঠকে ছিলেন পাক বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। তাঁর পাশে থাকার জন্য লাহোরে যান বাংলাদেশ বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনিও ছিলেন বৈঠকে। আইসিসি'র সিইও সংযোগ গুপ্তাও ভিডিও কনফারেন্সে ছিলেন। এবার এনডিটিভি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুযায়ী ভারতের বিরুদ্ধে খেলার জন্য তিনটি শর্ত রেখেছে পিসিবি।
- বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললেও তাদের 'পার্টিসিপেশন ফি' দিতে হবে।
- আইসিসি'কে নিশ্চিত করতে হবে ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে আইসিসি'র বড় কোনও প্রতিযোগিতা হতে পারে।
- আইসিসি'র কাছ থেকে যে লভ্যাংশ পায় বাংলাদেশ, তা বাড়াতে হবে।
আবার অন্য এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের রিপোর্টের দাবি, বাংলাদেশের স্বার্থে নয়, পাকিস্তান তিনটি শর্ত রেখেছে কেবল নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবে। সেই তিনটি শর্ত হল -
- আইসিসি'র কাছ থেকে যে লভ্যাংশ পায় পিসিবি, তা অবিলম্বে বাড়াতে হবে।
- শেষবার ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়েছিল ২০০৮ সালে। তা আবার চালু করতে হবে।
- ভারতীয় ক্রিকেটারদের করমর্দনের বাধ্য করতে হবে।
এনডিটিভি সূত্রে যে তিন শর্ত উদ্ধৃত হয়েছে, তা আইসিসি'র মেনে নিতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু অন্য তিন শর্তের মধ্যে লভ্যাংশের প্রসঙ্গ বাদে বাকি দুই শর্ত আইসিসি'র পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। কারণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং করমর্দন ইস্যু নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। সেখানে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা নাক গলাতে পারে না।
তবে পাকিস্তান যে পিছু হটতে পারে, সেই আভাস আগেও পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমত, আইসিসি'কে পাকিস্তানের তরফে বৈঠক করার অনুরোধ করা হয়। কারণ পিসিবি ম্যাচ বয়কটের ব্যাপারটা পুরোপুরি পাকিস্তান সরকারের ঘাড়ে চাপায়। এরপরেই রবিবারের পঞ্চমুখী বৈঠক। জানা গিয়েছে, পিসিবি'র কিছু কর্তাও চান, ম্যাচ হোক। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে কথাও বলবেন পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। তাছাড়াও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সলমন আঘাদের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। তাই বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ভারত ম্যাচ বয়কটের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত তারা নিতে চায়নি।
তাছাড়াও শ্রীলঙ্কা বোর্ডের চাপ তো ছিলই। কারণ ইতিমধ্যেই তারা ক্রিকেটারদের রাষ্ট্রপ্রধানদের সমান নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। অর্থাৎ ম্যাচ আয়োজন নিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রের তরফে যে কোনও ত্রুটি থাকবে না, সেই প্রতিশ্রুতিও তারা দিয়েছে। সুতরাং ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের যে ধুয়ো পাকিস্তান তুলেছে, তার কোনও সরবত্তা নেই। যা ইতিমধ্যেই বুঝেছে তারা। নিজেদের পায়ে কুড়ুল না মেরে বয়কট নাটক ভুলে আগামী রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কি নামবে পাক দল? জানা যাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
