চব্বিশ ঘণ্টা পরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বোধন। তবে তার আগে চর্চা চলছে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান মহারণ নিয়ে। আদৌ কি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপে দেখা যাবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মহারণ? এখনও এর উত্তর অজানা। তবে আইসিসি'র কাছে শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে রেখেছে পাক বোর্ড। এবার ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে আসরে নামল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে খেলার হুঁশিয়ারি দিয়ে কড়া চিঠি লিখেছে তারা। সেখানে ১৭ বছর আগে লাহোরের জঙ্গিহানার কথাও পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইও অ্যাশলে ডি সিলভা শুক্রবার বলেন, "আমরা যে রিপোর্ট পেয়েছি, তার ভিত্তিতে পিসিবি'কে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি।" উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছিল, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে তারা মাঠে নামবে না। তবে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত আইসিসি'কে লিখিতভাবে তারা কিছু জানায়নি। তবে পাকিস্তান সত্যিই যদি ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে, তাহলে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে তারা। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি'কে কড়া চিঠি লিখেছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'আয়োজক দেশ হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতার জন্য অপেক্ষা করছি। শ্রীলঙ্কায় হতে চলা ম্যাচগুলির জন্য নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং বাণিজ্যিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন। ম্যাচের টিকিট বিক্রিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।' ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জন্য টিকিট বিক্রির কথাও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। তবে পাকিস্তান যদি না খেলে তাহলে আর্থিকভাবে বিশাল প্রভাব পড়বে শ্রীলঙ্কায়।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'আয়োজক দেশ হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতার জন্য অপেক্ষা করছি। শ্রীলঙ্কায় হতে চলা ম্যাচগুলির জন্য নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং বাণিজ্যিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন। ম্যাচের টিকিট বিক্রিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।'
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যে কোনও রকম ত্রুটি রাখতে চাইছে না শ্রীলঙ্কা। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হবে কলম্বোকে। সূর্য-শাহিনদের জন্য রাষ্ট্রপ্রধানের সমান নিরাপত্তা থাকবে। যা নিয়ে মুখও খুলেছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। ম্যাচ হবে মনে করেই এলিট সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করছে শ্রীলঙ্কা। এই ধরনের নিরাপত্তা সাধারণত দেওয়া হয় রাষ্ট্রপ্রধানদের। যা এবার বিশ্বকাপের জন্যও নিযুক্ত হতে চলেছে। ক্রিকেটাররা বিমানবন্দর থেকে বেরনোর পর ফের বিমানে ওঠা পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর আওতায় থাকবেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সেই নিরাপত্তা আরও জোরাল করা হবে।
চিঠিতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ম্যাচটি না হলে খুবই খারাপ প্রভাব পড়বে। আর্থিক, পর্যটন খাতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হোটেল বুকিং, বিমানের টিকিট বুকিং সেক্ষেত্রে বাতিল হবে। ছোট ব্যবসায়ীরাও ধাক্কা খাবেন। তাছাড়াও পাকিস্তানকে রাজি করাতে তাদের অতীতের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পাকিস্তানে খেলতে গিয়ে জঙ্গিহামলার সামনে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ক্রিকেটাররা। সেই সময় কোণঠাসা অবস্থায় ছিল পাকিস্তান। সেই সময় অন্যান্য ক্রিকেট দল পাকিস্তানে যায়নি। যদিও কঠিন সময়েও পাকিস্তানে গিয়ে খেলেছিল শ্রীলঙ্কা। এখন তারই প্রতিদান চাইছে তারা।
