অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মাদের হাত ধরে যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং। সোয়া দু’শো-আড়াইশো রান যেন এখন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে জলভাত। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্যসমাপ্ত সিরিজে যেন বারবারই সেকথা প্রমাণিত হয়েছে। আর এমন প্রবণতায় বেশ উদ্বিগ্ন প্রাক্তন কিউয়ি কোচ গ্যারি স্টেড। তিনি মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের এমন বেপরোয়া দাপটে বোলারদের সংকট বাড়বে। সঙ্গে ক্রিকেটের প্রাচীনতম ফরম্যাটের ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
দীর্ঘদিন নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব সামলেছেন স্টেড। কোচিং কেরিয়ার রীতিমতো তারকাখচিত। তাঁর আমলেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে কিউয়িরা, সামান্যর জন্য রানার্স হয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সেই স্টেডকে বেশ উদ্বিগ্ন শোনাল টি-টোয়েন্টির দাপট প্রসঙ্গ উঠতেই।
“বড্ড বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা হচ্ছে এখন। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ তো আছেই। সঙ্গে একটার পর একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। পুরো ফোকাসটাই এই ফরম্যাটে। দু’শোর বেশি রান যেন কোনও ব্যাপারই নয়,” কল্যাণীর মাঠে দাঁড়িয়ে বলছিলেন প্রাক্তন কিউয়ি হেডস্যর, “এভাবে চললে টেস্ট আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দশর্কদের আগ্রহ কমবে। ব্যাটারদের মানসিকতাও বদলে যাবে। আর টি-টোয়েন্টি এখন যেভাবে হচ্ছে, তাতে বোলারদের জন্য কিছুই নেই। হয় বোলারদের নতুন স্কিল আয়ত্ত করতে হবে, নয়তো আইন পরিবর্তন করে ওদের আরও সুবিধা দিতে হবে। না হলে ব্যাটে-বলে সাম্য থাকবে না।”
আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছেড়ে অন্ধ্রপ্রদেশের রনজি দলে কোচিং করাচ্ছেন স্টেড। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনেও রয়েছে সাদা বলের দাপটের বিষয়টি। স্টেড বলছিলেন, “আমি সবসময়ই লাল বলের ফরম্যাটে কাজ করতে আগ্রহী। তবে জাতীয় দলের কোচ হিসাবে সেই লক্ষ্যপূরণ করতে পারছিলাম না। তাই নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তখনও ভারতে রনজি দলের কোচিং করানোর কোনও ভাবনা ছিল না। পরে অন্ধ্র যোগাযোগ করলে আমার বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হয়।” সদ্য ভারতে হতশ্রী পারফর্ম করলেও স্টেডের আশা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নজর কাড়বে তাঁর প্রাক্তন দল নিউজিল্যান্ড।
