কথায় বলে দো ভাই, দোনো তাবাহি। অর্থাৎ একসঙ্গে মিলে দুনিয়া কাঁপিয়ে দেয় দুই ভাই। কিন্তু ভাইরা যদি থাকে শত্রু শিবিরে? এমনটাই ঘটছে দক্ষিণ আফ্রিকার মর্কেল ভাইদের সঙ্গে। রবিবার টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে নামছে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচের একদিকের ডাগআউটে থাকবেন মর্নি মর্কেল। আর শত্রু ডাগআউটে অ্যালবি মর্কেল বসে থাকবেন। মাঠের বাইরে দুই ভাইয়ের লড়াই দেখতেও মুখিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের শুরুতে প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেসময়ে কথা হয়েছিল মর্কেল ভাইদের। তারপর থেকেই 'শত্রু'দের মধ্যে কথা বন্ধ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতের বোলিং কোচ মর্নি বলছেন, "সেই ওয়ার্ম আপ ম্যাচের সময়ে অ্যালবির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তারপর থেকে আমাদের সেরকম কথা হয়নি। মাঝে মাঝে ওকে দেখেছি।" এবার দুই দলের ডাগআউটেও থাকবেন দুই 'শত্রু'।
উল্লেখ্য, নানা ফরম্যাটে একসঙ্গে ৪৮টি ম্যাচ খেলেছেন মর্কেল ভাইরা। দুই ভাইয়ের কর্মক্ষেত্র এখন দুই দেশে। মর্নি ভারতের বোলিং কোচ। অ্যালবি প্রোটিয়া দলের মেন্টর। কোচিং জীবনটাও একসঙ্গে শুরু করেছিলেন দুই ভাই। এতেই ধর্মসংকটে মর্কেল পরিবার। কাকে সমর্থন করবেন, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না তাঁদের মা, মারিয়ানা মর্কেল। ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা, কাকে সমর্থন করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।
তবে প্রোটিয়াদের মেন্টর মনে করছেন, মা মারিয়ানা অনেকটাই ঝুঁকে রয়েছেন অ্যালবির দিকে। কারণটা নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার পরামর্শদাতা তিনি। তাই হয়তো তাঁর সমর্থন থাকবে না ছোট ছেলে মর্নির দিকে। তবে মর্নিকে সাহস জোগাবে ভারতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। গতবার টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও প্রোটিয়াদের হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে এনেছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়ারা। রবিবার ম্যাচের আগে অবশ্য হাত মেলাতে দেখা গিয়েছে দুই মর্কেলকে। শেষ হাসি হাসবেন কে?
