ইতিহাস গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। প্রথম দল হিসাবে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়, প্রথম দল হিসাবে টানা দু’বার বিশ্বকাপ জয়, একমাত্র দল হিসাবে তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন - রবিবারের আহমেদাবাদে রেকর্ডের হ্যাটট্রিক গড়েছে টিম ইন্ডিয়া। ফাইনাল জেতার পর গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) কী বলেছিলেন ভারতীয় দলকে? বিশ্বজয়ের চার দিন পর ফাঁস সূর্যকুমার যাদবের। তাছাড়াও আহমেদাবাদে শেষ মুহূর্তে কি হোটেল বদলেই বিশ্বজয় সম্ভব হয়েছে? মুখ খুলেছেন স্কাই।
২০২৪ সালে গম্ভীর ও সূর্যর যুগলবন্দি শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় দল নতুন মন্ত্রে এগোচ্ছে। এই সময়কালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারত কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজও হারেনি। এশিয়া কাপ জিতেছে। ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলগত সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই বারবার বলেছেন গম্ভীর, জানিয়েছেন স্কাই। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত অধিনায়ক বলেন, ফাইনালের পর ড্রেসিংরুমে ট্রফি সামনে রেখে গম্ভীর ভারতীয় দলকে অসাধারণ এক বার্তা দেন। যা শুনে খুব আনন্দ পেয়েছিলেন সকলে।
“গৌতিভাইয়ের ভাষণ সেরা ছিল। ট্রফিটা আমাদের সামনে রেখে বলেছিল, ড্রেসিংরুমে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। বাকি সব কিছু ভুলে যাও। তুমি কত রান করলে, মানুষ একদিন ভুলে যাবে। কিন্তু এই ট্রফিটা সবাই মনে রাখবে। দল হিসাবে আমরা কতগুলো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলাম, সেটাই শেষ পর্যন্ত মনে থাকবে। তুমি ১০০টা দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ জিতলেও কেউ মনে রাখবে না। এই কথাগুলোই আমাদের তাতিয়ে দেয়,” বলেন সূর্যকুমার।
গম্ভীর স্বভাবের জন্যই পরিচিত টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ। দলের পারফরম্যান্স দেখে তিনি কি আদৌ হেসেছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সূর্যকুমার বলেন, টুর্নামেন্টের শেষদিকে কোচকে খুশি করার মতো পারফরম্যান্সই করেছে দল। “প্রথম চারটে ম্যাচে আমরা ওকে হাসার সুযোগই দিইনি। কিন্তু তারপর ভীষণ খুশি হয়েছিল। আমার মনে হয় না ভারতের অন্য কোনও দল এত আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে। ২৫০, ২৫৬ রান তুলেছে। ভালো রান তাড়াও করেছে। ফাইনালের পর সবচেয়ে বেশি হাসছিল গৌতিভাই,” মন্তব্য ভারত অধিনায়কের।
সূর্য বলেন, “প্রথম চারটে ম্যাচে আমরা ওকে হাসার সুযোগই দিইনি। কিন্তু তারপর ভীষণ খুশি হয়েছিল। আমার মনে হয় না ভারতের অন্য কোনও দল এত আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে।”
ফাইনালের আগে ‘ফাঁড়া’ কাটাতে অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীররা। ফাইনালের আগে হোটেলই বদলে ফেলে ভারতীয় দল। কেন বদলে ফেলা হল, তা নিয়ে এতদিন কেউই মুখ খোলেননি। যদিও কারণটা নতুন করে বলার নয়। ২০২৩-র বিশ্বকাপ ফাইনাল ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচের আগে এই হোটেলেই ছিল ভারতীয় দল। আর দু’টো ম্যাচেই হারতে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে।
সূর্যর কথায়, “সেই সময় ওয়াংখেড়েতে সেমিফাইনাল খেলার জন্য বিমানে ছিলাম। আচমকাই দলের একজন হোটেল বদলের কথা বলে। অতীতে অনেক দলই এ কাজ করেছে। ট্রফি জেতার জন্য আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। যখন অন্য হোটেলে থেকে কোনও দল জিতেছে, তখন আমরাও সেটা করতে পারি। এই ভাবনা থেকেই হোটেল বদলানো হয়েছিল।” বলছেন সূর্য। ওয়াংখেড়ে তো বটেই, আহমেদাবাদেও ফাইনাল-যুদ্ধে জয় পায় ভারত। ভারত অধিনায়কের কথায়, “অনেকেই তো বলেছিল ভারত নাকি আহমেদাবাদে জেতে না। অথচ দেখুন, সেই স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপ জিতল। এখন আর কোনও সমস্যা নেই।”
