প্রশ্ন রেখেই বৃহস্পতিবার ভোট হচ্ছে পদ্মাপারে। আওয়ামি লিগ বিহীন বাংলাদেশে তীব্র উত্তেজনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ কার্যকরী করতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭.৩০টা থেকে। ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে ৩৬ বছর বয়সে প্রথমবার ভোট দিয়ে 'আত্মহারা' বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর চট্টগ্রামের আসকার দিঘির পাড়ে কোতোয়ালি থানার লোকপ্রশাসন কেন্দ্রে এসে ভোট দেন তামিম। সঙ্গী ছিলেন তাঁর দাদা এবং জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল। বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটারের আগমন ঘিরে ভোটকেন্দ্রে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তায় তামিমকে ভোটকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোট দেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ৩৬ বছর বয়সি ক্রিকেটার বলেন, "জীবনের প্রথম ভোট দিচ্ছি। সত্যি বলতে পরিবেশটা বেশ ভালো লাগছে। খুবই এক্সাইটেড! পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পেরে স্বস্তি বোধ করছি। পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ। আশা করি, সবাই এমন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন।" তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের সকলেই ভোট দিতে গিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ভোট কেন্দ্রের অদূরে কাজীর দেউড়িতে তামিমের পরিবারের স্থায়ী নিবাস।
তামিম বলেন, "পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ। আশা করি, সবাই এমন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন।"
তামিম যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, তা চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনভুক্ত। সেখানে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৬৩ জন। সব মিলিয়ে ১২১টি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন। আসনটিতে লড়াই করছেন ১০ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা বিএনপি'র প্রার্থী মহম্মদ আবু সুফিয়ান এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের মধ্যে। আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন আবদুস শুক্কুর, মহম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, সৈয়দ মহম্মদ হাসান মারুফ, শফিউদ্দিন কবির, মহম্মদ নঈম উদ্দীন, মহম্মদ নুরুল আবসার মজুমদার, মহম্মদ হায়দার আলি চৌধুরী এবং আবদুল মোমেন চৌধুরী।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ভারতের মাটিতে নিরাপদ নন, এই কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বাংলাদেশ। বিকল্প ভেন্যু হিসাবে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়ে আইসিসিকে চিঠিও দেয় বাংলাদেশ বোর্ড। এহেন ডামাডোলের মধ্যে মুখ খুলেছিলেন তামিম। তিনি বলেছিলেন, "আমার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ এবং বাকি সব কিছু মাথায় রেখেই যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কথাবার্তার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো গেলে তার চেয়ে ভালো কিছু হয় না। সবার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত। আমাদের বোর্ডের ৯০-৯৫ শতাংশ অর্থ আসে আইসিসি থেকে। তাই সেটা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।" অহেতুক বিসিসিআই বা আইসিসির বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করাটা যে আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করবে, সেটা ভালোই বুঝেছিলেন প্রাক্তন ওপেনার। যদিও তামিমের মন্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে বিসিবি'র অন্যতম ডিরেক্টর নাজমুল ইসলাম তোপ দাগেন, "এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দু'চোখ ভরে দেখল।" যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এবার সেই তামিম সপরিবারে ভোট দিয়েছেন।
