আফগানিস্তান: ১৫৬/৮ (ওমরজাই ৬৪, নবি ৩৩, অর্শদীপ ১৯/৩, বরুণ ১৬/১)
ভারত: ১৫৭/৩ (অভিষেক ৮২, ঈশান ৪২, নবি ২৮/২, ওমরজাই ২৮/১)
৭ উইকেটে জয়ী ভারত।
আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজকে অনেকেই বলছেন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি পর্ব। শক্তির বিচারে অনেক এগিয়ে টিম ইন্ডিয়া (India)। ম্যাচেও সেটাই দেখা গেল। রাজধানীতে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে এশিয়াডের আগে ড্রেস রিহার্সালের শুরুটা দারুণ করল শ্রেয়স আইয়ারের দল। ১৫৭ রানের লক্ষ্য ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে পূরণ করে নিল ভারত।
অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেনে কাকে দেখা যাবে? বৈভব সূর্যবংশী নাকি সঞ্জু স্যামসনকে? খেলানো হল না বৈভব সূর্যবংশীকে। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রেয়স। বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টিতে কামব্যাক হল জশপ্রীত বুমরাহর। টসের আগে আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান ও শ্রেয়স নিজেদের মধ্যে জার্সি-টুপি-কয়েন বিনিময় করেন। কারণ, দিল্লিতে ম্যাচ হলেও এই প্রথমবার ভারতের বিরুদ্ধে আয়োজকের ভূমিকায় আফগানিস্তান।
তবে শুরুটা ভালো হল না আফগানদের। ৫০ রানের গণ্ডি পেরনোর আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল তারা। সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরলেন আজমাতুল্লা ওমরজাই ও মহম্মদ নবি। দু'জনে মিলে গড়লেন হাফসেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। ১৫ ওভার শেষে আফগানিস্তানের রান ৫ উইকেটে ১০৪। তবে এর পরেই দুরন্ত কামব্যাক অর্শদীপ সিংয়ের। একটি ছক্কা হজম করার পরের বলেই নিখুঁত ইয়র্কারে নবির উইকেট ভেঙে দিলেন ভারতীয় পেসার। ভাঙল ৮৩ রানের জুটি। ৩৩ রানে ফিরলেন নবি। ১২৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর আজমাতুল্লাকে স্ট্রাইকে আনতে গিয়ে পর পর দুই বলে রশিদ খান ও নুর আহমেদকেও হারাল আফগানিস্তান। রশিদ ফিরলেন এক রানে, নুর হলেন রান আউট।
কঠিন সময়ে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন আজমাতুল্লা। তারকা অলরাউন্ডার ৩৯ বলে হাঁকালেন হাফসেঞ্চুরি। শেষ দিকে তাঁর ব্যাটেই আফগানিস্তানের লড়াইটা আরও জমে উঠল। ইনিংসের শেষ ওভারে শিবম দুবেকে আক্রমণ করে দু'টি ছক্কা হাঁকালেন আজমাতুল্লা, মুজিব উর রহমান মারলেন দু'টি চার। এক ওভারেই এল ২১ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান তুলল আফগানিস্তান। ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত রইলেন আজমাতুল্লা। অর্শদীপ নিলেন ১৯ রানে ৩ উইকেট। বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীর শিকার একটি করে উইকেট।
১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ফজলহক ফারুকির প্রথম ওভারে চার মারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সঞ্জু স্যামসন (১০)। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর পর ঈশান কিষান ও অভিষেক শর্মার ব্যাটে বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ফারুকির এক ওভারে ঈশান ছক্কা-চার মারার পর অভিষেকও পরপর ছক্কা ও চার হাঁকান। এক ওভারেই ওঠে ২৬ রান। অভিষেকের ৩২ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। অভিষেক ফিরলেও জয়ের রাস্তা থেকে সরেনি ভারত। ঈশান কিষানও ৪২ রান করে আউট হন জয়ের একেবারে দোরগোড়ায়। শেষ কাজটুকু সারেন শ্রেয়স আইয়ার ও তিলক বর্মা। তার আগে আফগানিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে ৬৪ রান করা ওমরজাই বল হাতেও সাফল্য এনে দিয়েছিলেন দলকে। শেষ পর্যন্ত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল ভারত।
