বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে শুধু মন্দিরে কেন? প্রশ্ন তুলেছিলেন ১৯৮৩ সালের বিশ্বজয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। এহেন বিতর্কের ক'দিন পরেই গুরুদ্বারে গেলেন গৌতম গম্ভীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লির গুরুদ্বার শ্রীরাকাবগঞ্জ সাহিবে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন তিনি। পরের বছরেই রয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছেন তিনি। ’২৭-এর বিশ্বজয়ের প্রার্থনা কি এখন থেকেই করলেন তিনি?
টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচের টিমের পক্ষ থেকে সেই ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মাথা ঢেকে রেখেছেন গম্ভীর। ক্রিকেটের মতো ক্রিকেট-সংস্কার নিয়েও ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর বেশ কড়া। টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার ছাড়াও খেলাটার পারিপার্শ্বিকে ঘুরতে থাকা সংস্কারগত যে সমস্ত বিষয়-আশয় থাকে, তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তিনি।
ভারতের বিভিন্ন শহরে যেসব জাগ্রত মন্দির বা দেবালয় রয়েছে, গম্ভীর নিয়ম করে সেখানে যান। পুজো-আচ্চা দেন। কলকাতায় গেলে কালীঘাট। মুম্বই গেলে সিদ্ধি বিনায়ক। গুয়াহাটি গেলে কামাখ্যা। অর্থাৎ, খেলার যে আচার সাফল্য-প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড় ভাবে জুড়ে থাকে, যা যা রেওয়াজ পালিত হয়, ভারতীয় কোচের কাছে তা সদা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বজয়ের রাতেও তেমন হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন।
এর পরেই ১৯৮৩-র বিশ্বজয়ী কীর্তি আজাদ প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই ট্রফি ভারতের সমস্ত ধর্মাবলম্বী মানুষের। সেই ট্রফি কেন নির্দিষ্ট একটি ধর্মের উপাসনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে? বিশ্বকাপ জেতার নেপথ্যে সঞ্জু স্যামসন এবং মহম্মদ সিরাজের মতো সংখ্যালঘু ক্রিকেটারদের অবদানের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অধুনা তৃণমূল সাংসদ কীর্তি। যদিও তাঁর এই মন্তব্য আমল না দিয়ে গম্ভীর বলেছিলেন, “এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনও মানে নেই। ভারত বিশ্বকাপ জিতেছে, সেটা বিরাট ব্যাপার। সেটাকেই সেলিব্রেট করুন। এই ধরনের কথাবার্তা নিয়ে আলোচনার দরকারই নেই।” অনেকেই বলেছিলেন, এটা নিয়ে খামকা রাজনীতি করছেন কীর্তি। এবার এই বিতর্কের মধ্যে দিল্লির গুরুদ্বারে গেলেন গম্ভীর। তবে নেটিজেনরা এই প্রশ্নও তুলেছেন, বিতর্কের মুখে পড়েই কি সিদ্ধান্ত বদল করলেন গৌতি?
