টি-২০ বিশ্বকাপ জয় অতীত। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবার সেদিকেই ফোকাস করা শুরু টিম ইন্ডিয়ার। আইপিএলের পরই ভারতীয় দল আমূল বদলে যাচ্ছে। বলা ভালো, ভারতীয় দলের ফোকাস এবং প্রস্তুতির ধরন আমূল বদলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলে যাবে সূচিও। এতদিন পর্যন্ত টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য টিম ইন্ডিয়া ফোকাস করছিল ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে। এবার সেই ফোকাস সরে যাবে ওয়ানডে-তে। প্রতিটি সিরিজেই অতিরিক্ত ওয়ানডে ম্যাচ খেলা হবে। ফলে পূর্ব নির্ধারিত সিরিজগুলির সূচিও আমূল বদলাচ্ছে। নতুন দুই একটি সিরিজ খেলারও ছাড়পত্র দিতে চলেছে ভারতীয় বোর্ড।
আসলে ভারতের ওয়ানডে দলের মূল স্তম্ভ বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। দু'জনেই আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে চান। সূত্রের খবর, বোর্ডও তাঁদের দলে রেখেই সাতাশের টিম সাজানোর কথা ভাবছে। কিন্তু সমস্যা হল, এঁরা দু'জনের কেউই এখন ওয়ানডে ছাড়া অন্য কোনও ফরম্যাট খেলেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটেও সেভাবে দেখা যায় না। তাই দুই মহাতারকাকে গেম টাইম দিতে ভারতীয় দল নিজেদের ক্রীড়াসূচি আমূল বদলে ফেলতে চলেছে। প্রতিটি সিরিজেই যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ানডে ম্যাচ। এমনকী কয়েকটি নতুন ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের ভাবনাও রয়েছে। উদ্দেশ্য, দুই মহাতারকাকে নিয়মিত গেম টাইম দিয়ে সতেজ রাখা।
জানা গিয়েছে, আইপিএলের পর একাধিক দেশ থেকে ওয়ানডে সিরিজ খেলার প্রস্তাব পাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। সেগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি অনুরোধ নাকি গ্রহণও করা হয়েছে। এমনিতে ভারত ফের ওয়ানডেতে মাঠে নামবে জুন মাসে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ৩ ম্যাচের সিরিজ আছে। এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ। শোনা যাচ্ছে ইংল্যান্ড সফরের পর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেও একটি সংক্ষিপ্ত ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারে টিম ইন্ডিয়া। এমনটাই আবেদন করেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। বিসিসিআই সেই আবেদন মেনেও নিয়েছে।
এরপর শ্রীলঙ্কার তরফে একটি সাদাবলের সিরিজের অনুরোধ এসেছে। সেখানেও গোটা তিনেক ওয়ানডে খেলতে পারে ভারত। এরপর বাংলাদেশে সিরিজ খেলার কথা (যদিও সেই সিরিজ এখনও অনিশ্চিত)। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি সিরিজ হতে পারে। অক্টোবর-নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ রয়েছে। যেখানে ৫টি টি-টোয়েন্টি, দু’টি ওয়ানডে ও দু’টি টেস্ট খেলার কথা ভারতের। তবে নিউজিল্যান্ড বোর্ড চাইছে টি-টোয়েন্টির সংখ্যা কমাতে। সেক্ষেত্রে দু’টি টি-টোয়েন্টি কমিয়ে সেই জায়গায় ওয়ানডে খেলা হতে পারে। সব মিলিয়ে আগামী এক বছর পরপর ওয়ানডে খেলার কথা টিম ইন্ডিয়ার। সবটাই কোহলি-রোহিতদের ফিটনেসের কথা মাথায় রেখে। ভারতের ওয়ানডে ম্যাচ বাড়ার অর্থ ১০০ সেঞ্চুরির লক্ষ্যপূরণের সম্ভাবনা বাড়ছে বিরাট কোহলির।
