এবার আইপিএলে নজর সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী সংস্থার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিশ্বের অন্যতম কোটিপতি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বিনিয়োগ করতে পারে টেমাসেক। ওই কোম্পানির ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশেষ শ্রীবাস্তব রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইপিএল নিয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
শ্রীবাস্তব বলেন, “আইপিএল বিশ্বের অন্যতম ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। তাই এই টুর্নামেন্টে বিনিয়োগ করতে আমরা আগ্রহী। ভবিষ্যতে ভালো সুযোগ পেলে আমরা অবশ্যই এগিয়ে যাব।” তবে কোন ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। চলতি বছর মার্চে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে আইপিএলের দুই ফ্রাঞ্চাইজি। ভারতীয় মুদ্রায় ১৬,৮৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বিরাট কোহলিদের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে রাজস্থান রয়্যালসের দাম উঠেছে ১৫,৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দু’টো দলের দাম উঠেছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। হয়তো এই কারণেই বিদেশি সংস্থাগুলিও আইপিএলে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক হুলিহান লোকির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইপিএলের বাজারমূল্য ১৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এই আবহেই শোনা গিয়েছিল, আইপিএলে বিনিয়োগে মরিয়া ছিলেন মার্কিন ধনকুবের ব্যবসায়ী ডেভিড ব্লিজার। আসলে আইপিএলের প্রতি ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় শুধু আমেরিকার এনএফএল আইপিএলের আগে রয়েছে। তবে আগামী আইপিএলের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রিতে আগের মতো বড় প্রতিযোগিতা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এখনও অ্যামাজন বা নেটফ্লিক্স ভারতীয় ক্রিকেটের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার দৌড়ে নামেনি। ফলে বিডের সংখ্যাও তুলনামূলক কম।
এই পরিস্থিতিতে ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইজরি আগামী মিডিয়া স্বত্ব থেকে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, জিওস্টার বর্তমান আইপিএল স্বত্ব কিনতে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ করেছে। পাশাপাশি আইসিসির সম্প্রচার স্বত্বের জন্য আরও ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির দায়ও রয়েছে তাদের। বর্তমান স্বত্বের মেয়াদ ২০২৭ সালে শেষ হবে। তাই ওই মরশুম শেষ হওয়ার পর থেকেই আইপিএলের নতুন মিডিয়া স্বত্ব নিয়ে আলোচনা জোরদার হবে। এই পরিস্থিতিতে এবার শোনা গেল সিঙ্গাপুরের টেমাসেকও আগ্রহী। গত এক দশকে ভারতে টেমাসেকের বিনিয়োগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শ্রীবাস্তব জানান, ভবিষ্যতেও ভারতে আর্থিক পরিষেবা-সহ স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগে জোর দেবে তারা। বর্তমানে স্ন্যাকস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলদিরামস এবং মণিপাল হসপিটালসেও টেমাসেকের বিনিয়োগ রয়েছে। এখন দেখার, আইপিএলে তারা কোনও বিনিয়োগ করে কি না।
