বয়স মাত্র ১৫। কিন্তু এই বয়সেই সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলকে মাঝে মাঝে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিস্ময় প্রতিভা। তবে স্রেফ নামেই সহ-অধিনায়ক নয়, মাঠেও যথেষ্ট বুদ্ধি খাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে। আম ক্রিকেটপ্রেমী তো বটেই, বিসিসিআইয়ের নজরেও পড়েছে বৈভবের এই ক্ষুরধার অধিনায়কত্ব। ভিডিও পোস্ট করে বার্তাও দিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। তারপর থেকেই চর্চা চলছে, তাহলে কি ভারতীয় দলের পরবর্তী অধিনায়কের নাম বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi) ?
দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে দলীপ ট্রফির ফাইনাল খেলছে বৈভবের পূর্বাঞ্চল। তৃতীয় দিনে ব্যাট করছে দক্ষিণাঞ্চল। কিন্তু ইনিংসের শুরুতেই মুকেশ কুমারের ডেলিভারিতে খোঁচা দেন ওপেনার রিকি ভুঁই। সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে ভোলেননি উইকেটকিপার কুমার কুশাগ্র। কিন্তু আউটের আবেদনে একেবারেই পাত্তা দেননি আম্পায়ার। অধিনায়ক ঈশান কিষানও বিশেষ উৎসাহ দেখাননি। কিন্তু বৈভব একেবারে বিশ্বাসে অটল, রিকি অবশ্যই আউট।
স্লিপ থেকে চিৎকার করে বৈভব বলতে থাকেন, "আরে রিভিউটা নিয়ে নাও। আমি বলছি তো, রিভিউ করো।" তরুণ তুর্কির কথা শুনে শেষ পর্যন্ত রিভিউ নেন ঈশান। ডিআরএসে দেখা যায়, রিকি আউট। উইকেট পেয়ে বৈভবের সঙ্গে সেলিব্রেটও করেন মুকেশ। গোটা ঘটনার ভিডিও পোস্ট করেছে বিসিসিআই। সঙ্গে ক্যাপশন, 'বৈভব সূর্যবংশী আর সঠিক রিভিউয়ের মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছ।' উল্লেখ্য, দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে মধ্যাঞ্চলের বিরুদ্ধেও এমন চমকপ্রদ রিভিউ নিয়েছিল বৈভব। সেবারও মুকেশের ডেলিভারিতেই রিভিউ নিয়ে আউট নিশ্চিত করেছিল সে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির দলের অধিনায়কত্ব করা ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা। দলীপ ট্রফিতে বৈভবকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। তবে নির্বাচকেরা তখনই জানিয়েছিলেন, তাৎক্ষণিক নেতৃত্বের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে নয়, ভবিষ্যতের জন্য তরুণ ক্রিকেটারকে তৈরি করতেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্বে ইতিমধ্যেই বেশ সফল হচ্ছে বৈভব। তাহলে কি বৈভবকে এবার অধিনায়ক হিসাবেও ভাবা উচিত? বোর্ডের পোস্ট ঘিরে জল্পনা।
